ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচিব সভায় ২৩ নির্দেশনা, দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করতে কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০২:৩৭:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ০৪:০২:৪৮ অপরাহ্ন
সচিব সভায় ২৩ নির্দেশনা, দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করতে কমিটি
দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন এবং একই কর্মকর্তা-কর্মচারীর বারবার বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সরকারি অফিসে সোলার প্যানেল স্থাপন, ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিত করা, সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধ, শূন্যপদ পূরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ২৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের নিয়ে সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সভাপতিত্ব করেন। পরে সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো লিখিতভাবে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে পাঠানো হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে—এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বারবার বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমাতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন সব দপ্তর ও কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতি দুই মাস অন্তর অগ্রগতি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর যথাসময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব দপ্তর ও কার্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপন করতে হবে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর হাজিরার তথ্য একটি একক ড্যাশবোর্ডে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ের নিজ নিজ অধিক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে প্রতি ১৫ দিন পরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে, জেলা প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এবং বিভাগীয় কমিশনার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবেন।

কোনো সরকারি কর্মচারী নিজের পক্ষে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করালে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের তদবিরের বিস্তারিত তথ্য ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

ডি-নথিতে বাস্তবায়নযোগ্য সব দাপ্তরিক কার্যক্রম গোপনীয়তা বজায় রেখে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। কোনো চিঠি বা নথি হাতে পাওয়ার পর অযথা সময়ক্ষেপণ না করে সচিবালয় নির্দেশমালা অনুযায়ী তা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শূন্যপদ পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপ্রয়োজনীয় ও বিলুপ্তিযোগ্য পদ চিহ্নিত করে বিলুপ্তির উদ্যোগ নিতেও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সেবা প্রত্যাশীদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থাকে নিজ নিজ সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রতি তিন মাস অন্তর হালনাগাদ প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সব সরকারি কর্মচারীর কর্মজীবন পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ক্যাডারের পদসৃজন, পদ বিলুপ্তি, গ্রেড উন্নীতকরণসহ ক্যাডার পদের সঠিক হিসাবসংবলিত বার্ষিক প্রতিবেদন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

আন্তঃসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ভূমি ও আইনি বিরোধ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সহায়তা নিতে হবে। এক সরকারি অফিসের বিরুদ্ধে অন্য সরকারি অফিসের মামলা করার প্রবণতা পরিহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি জমি বা সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন অফিস ও সংস্থার অনুকূলে অধিগ্রহণ করা জমি সংশ্লিষ্ট অফিস বা সংস্থার নামে গেজেটে অন্তর্ভুক্তি ও নামজারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানোর সময় গোপনীয়তা রক্ষাসহ যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রেও রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ১৬ ও ১৯ নম্বর রুল আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার অন্তত চার কার্যদিবস আগে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ তৈরির সময় সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর তফসিল ৭-এ দেওয়া নমুনা ছক অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থের সংস্থান ছাড়া কোনো ক্রয় প্রস্তাব বা পরিবর্তিত প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য উপস্থাপন বা পাঠানো যাবে না বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাঠপর্যায়ের কমিটিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার সময় সময় যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণের কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নিজ নিজ প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সচিব সভার এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ