ঢাকা , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের সোনার আংটি

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৮-০৯-২০২৬ ০৪:৩৫:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-০৯-২০২৬ ০৬:৩৪:৩২ অপরাহ্ন
​সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের সোনার আংটি ​ছবি: সংগৃহীত
ভারতের তামিলনাড়ু সরকার সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়ার প্রকল্প চালু করেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। 'থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টাম' বা 'মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প' নামে এই উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এটি ছিল বিজয়ের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে একটি।

এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য নবজাতকদের ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়া হবে। প্রতিটি আংটিতে আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকবে। আংটিগুলো দেওয়া হবে নিরাপদ, খোলা হয়েছে কি না বোঝা যায়—এমন বিশেষ প্যাকেটে। তামিলনাড়ু সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য বছরে ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দ করেছে।

তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা এই সুবিধা পাবে। শিশুর মা তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। এ ছাড়া তাকে 'প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড ইনফ্যান্ট কোহর্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন' বা PICME-তে নিবন্ধিত হতে হবে। তার কাছে 'রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ' বা RCH আইডিও থাকতে হবে।

২০২৬ সালের ২২ জুন বা এর পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে। ২২ জুন থেকে প্রকল্প চালুর দিন পর্যন্ত যেসব শিশু জন্মেছে, তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব শিশুর আংটি রাজ্যের ১০৭টি হাব বা বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে দেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ শিশুকে আংটি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প চালুর পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই আংটি দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তামিলনাড়ু সরকারের ভাষ্য, প্রকল্পটির লক্ষ্য শুধু নবজাতককে উপহার দেওয়া নয়। এর মাধ্যমে মাতৃত্বকে সম্মান জানানো, নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করা হবে।

তামিল সংস্কৃতিতে শিশুর জন্মের পর মায়ের ভাই বা মামার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সেই সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে 'থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম'। মন্ত্রী অরুণ রাজ বলেন, সন্তান জন্মের পর একজন মামা তার বোন ও শিশুর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সেই সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাচ্ছে। তবে প্রকল্পটি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নও উঠেছে।

বিরোধী দল ডিএমকের নেতা টিকে এস এলাঙ্গোভান বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন বাড়ছে, তখন বিনা মূল্যে সোনার আংটি দেওয়া তাদের সমস্যার সমাধান করবে না। তিনি কৃষকদের দুর্ভোগ ও মূল্যবৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া সোনার আংটি কেনার জন্য তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস করপোরেশনকে ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই সংস্থাটি সাধারণত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ