রাড্ডা ক্লিনিক দখলমুক্ত ঘোষণা, ধ্বংসস্তূপেই চলছে চিকিৎসাসেবা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৮-০৯-২০২৬ ০৩:২৮:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৮-০৯-২০২৬ ০৫:১০:০৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা, ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার কয়েক দিন পর প্রতিষ্ঠানটিতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে।
দখলদারদের টানানো অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্লিনিকটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দখলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে ফের প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব পরিচিতিমূলক সাইনবোর্ড সগৌরবে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা সোমবার সকালে সাহসিকতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়ে দখলদারদের ঝুলিয়ে দেওয়া সেই বিতর্কিত সাইনবোর্ডটি অপসারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তার চিরচেনা পরিবেশ ফিরে পেয়েছে।
এদিকে, মধ্যরাতের সেই নারকীয় তাণ্ডব ও ভাঙচুরের ক্ষত এখনো পুরোপুরি না শুকালেও, এক মুহূর্তের জন্যও থেমে নেই এই মানবিক প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। ধ্বংসস্তূপ ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অকুতোভয় স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ক্লিনিকের ভেতরে যতটুকু জায়গা ব্যবহারযোগ্য আছে, সেখানে অবস্থান নিয়ে এবং বাইরের খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবাসহ জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শুরু হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংস্কারকাজ। দুর্বৃত্তদের হামলায় ভেঙে পড়া দরজা-জানালা, লুট হওয়া চিকিৎসা কক্ষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য অংশ মেরামতে জোরেশোরে কাজ করছেন কর্মীরা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্লিনিকটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি স্বাভাবিক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে একদল সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালায়। তারা ক্লিনিকের মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল লুটপাটের পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর করে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মূলত ক্লিনিকের মূল্যবান জমি দখলের হীন উদ্দেশ্যেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছিল। হামলার পরপরই রাতেই সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি অবৈধ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসে এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাঁড়াশি অভিযানে এই নজিরবিহীন হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ক্লিনিক থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক ভর্তি মালামালও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
এছাড়া, এই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও ব্যর্থতার দায়ে শাহ আলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স