সরকারের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নয়: মাহদী আমিন
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-০৯-২০২৬ ১১:১৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৯-২০২৬ ০১:০২:০০ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
সরকারের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে এবং এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কঠোর তৎপরতা শুরু করেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং গত রাতে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
এ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বা সরকারের নাম ভাঙিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ফায়দা লোটার বা অপকর্মে জড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে বিবেচনা করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দিনব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র সফরের সার্বিক মূল্যায়ন করে মাহদী আমিন জানান, এবারের জাতিসংঘ সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। মাত্র চার দিনে প্রধানমন্ত্রী অন্তত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সশরীরে অংশ নিয়েছেন। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
বিশেষ করে দেশের কৃষি, প্রযুক্তি, নারী উন্নয়ন এবং তরুণ সমাজের ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। একটি স্বনির্ভর, আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী জাতি গঠনের যে দৃঢ় প্রত্যয় তিনি বিশ্বমঞ্চে ব্যক্ত করেছেন, তা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে চলা বিভিন্ন আলোচনারও জবাব দেন মাহদী আমিন। কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি করেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো প্রকার চাপের মুখে এই চুক্তি করা হয়নি। সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক স্বার্থ, উপযোগিতা ও লাভ-ক্ষতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পুরো সফরজুড়েই দেশ ও জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থকেই নিরঙ্কুশভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফল কূটনৈতিক সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স