তেলের ধাক্কা কৃষিতে: বাড়তি খরচের বোঝায় দিশেহারা কৃষক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৬-০৯-২০২৬ ০৩:৫২:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৬-০৯-২০২৬ ০৩:৫২:২৭ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে কৃষি খাতে। জমি প্রস্তুত, সেচ, মাড়াই থেকে শুরু করে ফসল পরিবহন ধান উৎপাদনের প্রায় প্রতিটি ধাপেই বেড়েছে ব্যয়। অথচ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের বাজারমূল্যে তার প্রতিফলন না থাকায় সিরাজগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও লোকসানের শঙ্কা।
কৃষকদের অভিযোগ, একের পর এক ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় চাষাবাদ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন করে ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হলে কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি সেচ ও কৃষি উপকরণে আরও সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
কামারখন্দ উপজেলার কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, “আগের দফায় তেলের দাম বাড়ার পরই পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষের খরচ বেড়েছিল। আগে প্রতি ডিসিমাল জমি হাল চাষে ৩০ টাকা লাগলেও তা বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। এবার নতুন করে তেলের দাম বাড়ায় সেই খরচ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “তেলের দাম বাড়ে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ধানের দাম বাড়ে না। ফলে উৎপাদন খরচই বেশি পড়ে যায়। এবার নতুন করে তেলের দাম বাড়ায় কৃষকের দুর্ভোগ বাড়বে।”
আরেক কৃষক রঞ্জু বাবু জানান, আগে ১০০ আঁটি ধানের বিপরীতে সেচের মালিককে ২৬ আঁটি ধান দিতে হতো। তেলের দাম বাড়ায় এবার সেচ খরচও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে ধান বিক্রি করে প্রতি মণে প্রায় ১১৫০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এই দামে উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে কৃষকের হাতে তেমন লাভ থাকে না। খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।”
কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে জমি চাষ, সেচসহ কৃষিকাজের প্রায় সব খরচই বেড়ে যায়। কিন্তু ধানের দাম সেই হারে বাড়ে না। এতে কৃষকের জন্য চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়ার কৃষকেরাও জানান, ধান আবাদে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ বড় অঙ্কের ব্যয় হয়। ডিজেলচালিত পাওয়ার টিলার ও সেচযন্ত্র ব্যবহারের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি উৎপাদন ব্যয়ে পড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন রয়েছে ৩৫ হাজার ৮২৯টি এবং ডিজেলনির্ভর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৫১ হাজার ৬৫২ হেক্টর। এসব জমিতে কৃষিকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে জ্বালানি তেলচালিত যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, “ডিজেলের দাম বাড়ায় কৃষকের জমি প্রস্তুত, সেচ, মাড়াই ও ফসল পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, উৎপাদন খরচ কমাতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।”
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স