ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে সরে গেছে বিএনপি সরকার: এইচ আর ডব্লিউ

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৬:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৭:০০:২৫ অপরাহ্ন
​প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে সরে গেছে বিএনপি সরকার: এইচ আর ডব্লিউ
বাংলাদেশের সংসদে সদ্য পাস হওয়া তিনটি আইন মানবাধিকার সুরক্ষাকে খর্ব করেছে এবং সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান সরকারকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটির মতে, এই নতুন আইনগুলোর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাখা কয়েকটি বিষয় তুলে নেওয়া হয়েছে, এতে অতীতে ঘটা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো অপরাধের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি করছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) শক্তিশালী করতে এবং গুমের ঘটনা প্রতিরোধ ও তদন্তে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এনএইচআরসির স্বাধীনতা খর্ব এবং এর তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। 

এ ছাড়া, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের জন্য দায়ী আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) বিলুপ্ত করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে এটিকে কেবল নাম পরিবর্তন করে সাধারণ পুলিশের চেয়েও কম সুরক্ষা বহাল রাখা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, অতীতের ভয়াবহ নির্যাতন ও নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে বাংলাদেশের সত্যিকারের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার এবং মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ তদন্তের এখতিয়ারসম্পন্ন একটি স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজন। নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহিতা ও চুলচেরা নজরদারি থেকে রক্ষা করার বর্তমান সরকারের এসব প্রচেষ্টা কোনও ভরসা জোগায় না; যেখানে খুন ও গুমের সংস্কৃতি অতীত হয়ে গেছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্বিচারে রাজনৈতিক বিরোধীদের আটক এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মতো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল। যদিও বর্তমান সরকারের আমলে খুন ও গুমের ঘটনা অনেকটাই কমেছে, তবে এই প্রশাসনও তার পূর্বসূরিদের মতো শত শত রাজনৈতিক বিরোধীকে নির্বিচারে আটক করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ।

সংস্থাটি জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে পাস হওয়া নতুন আইনে মানবাধিকার কমিশনকে সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া পাস হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ এবং ১০ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন’, যা র‍্যাবকে এসআরবিতে রূপান্তর করেছে, এর মাধ্যমেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোকে উল্টে দেওয়া হয়েছে। এসআরবির নতুন আইনে পর্যাপ্ত সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, তদারকি বা জবাবদিহিতার বিধান না থাকায় মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্তর্জাতিক অংশীদার, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড ও নীতির বিষয়ে অবিলম্বে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করার এবং এসআরবির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

ইলেইন পিয়ারসন আরও বলেন, আন্দোলনকারীরা যে সরকারের ব্যাপক ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখেছিল, সেই সরকারের পতনের পর তারেক রহমান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন। তবে নতুন সরকার যেভাবে এত দ্রুত শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ