ঢাকা , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৩:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৩-০৯-২০২৬ ০৫:১২:১৩ অপরাহ্ন
হঠাৎ পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা ফাইল ছবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে। বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আমদানি করা পণ্য পরিবহনে ট্রাকভাড়া বেড়েছে।

গন্তব্যভেদে ট্রাকপ্রতি পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত সোমবার সকাল থেকে ট্রাকভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্থানে চালক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

বন্দর এলাকার পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশের অভ্যন্তরে গন্তব্যভেদে ট্রাকভাড়া পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কোনো কোনো দূরবর্তী গন্তব্যে বাড়তি ভাড়া আট হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক ট্রাক বন্দর থেকে আমদানি করা পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়।

বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আমিনুল হক বললেন, ‘প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ট্রাকমালিকরা পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়েছেন। এতে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

তিনি বলেন, ‘পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ও রপ্তানি পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর ব্যয়ও বাড়ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যের বাজারমূল্যের ওপর পড়তে পারে।’

গত রবিবার রাতে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এতে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরপরই বেনাপোল বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনে ভাড়া বাড়তে শুরু করে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন মাশুল ও সার্ভিস চার্জ বাড়ার বিষয়টিও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বন্দরে ট্রাক অবস্থান, ডিটেনশন ও বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চার্জও বেড়েছে। এতে পণ্য খালাস ও পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। বন্দরে গাড়ি বেশি সময় আটকে থাকলে খরচ আরও বাড়ছে।

ট্রাকচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্দরে গাড়ি আটকে থাকলে একদিকে ডিটেনশন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে চলাচলের খরচও বেড়েছে। এসব ব্যয় শেষ পর্যন্ত ট্রাকভাড়ার সঙ্গে যোগ হচ্ছে।

আমদানিকারক আল মামুন বললেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পণ্য পরিবহনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে বন্দর মাশুল ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জ বাড়লে আমদানিকারকদের খরচ আরও বাড়বে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে আমদানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

পরিবহন ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, ‘বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে এর প্রভাব শুধু আমদানিকারকদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাড়তি পরিবহন ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও পড়বে।’

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি আতকুজ্জামান সনি জানান, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বন্দরের বিভিন্ন মাশুল ও সার্ভিস চার্জ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্যের পরিবহন ও বাজারজাতকরণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ