ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​উড়োজাহাজ ক্রয়

এয়ারবাসের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চান ফরাসি রাষ্ট্রদূত

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০২:৪১:২৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০২:৪৮:০৯ অপরাহ্ন
এয়ারবাসের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চান ফরাসি রাষ্ট্রদূত ​ছবি: সংগৃহীত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা 'এয়ারবাস'-এর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বিমানের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা এখনো ইতিবাচক পথেই এগোচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত 'ডিক্যাব টক' অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।

বিমানের বহরে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্বভেদে আলোচনার পর এয়ারবাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তাদের বহরে এয়ারবাস থাকাটা তাদের নিজেদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক ছিল। বিশ্বের বড় বড় সব বিমান সংস্থা দুই ধরনের উড়োজাহাজ তাদের বহরে রাখে; তাদের এয়ারবাসও থাকে, আবার বোয়িংও থাকে।

আন্তর্জাতিক রুট ও বিমানের দূরপাল্লার সক্ষমতার বিষয়টি টেনে তিনি আরও বলেন, আপনাকে কোনো একটি একক কোম্পানির ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না। আপনি দুটির সুবিধা তুলনা করে বেছে নিতে পারেন। যেমন এমন একটি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই সরাসরি আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে এবং সেটি বোয়িং নয়, সেটি এয়ারবাস। বিশ্বে কেবল এই একটি উড়োজাহাজ তা করতে সক্ষম। তাই অনেক যৌক্তিক ও কারিগরি কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়।

প্রতিযোগী মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কেনাকাটার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, আপনারা দেখলেই বুঝবেন বিশ্বের কত শত বিমান সংস্থা এয়ারবাস ব্যবহার করছে, তাই বিমানের এই সিদ্ধান্তে কোনো সন্দেহ বা ভুল ছিল না। আমরা জানতে পেরেছি যে আমেরিকান বোয়িং কোম্পানি কিছু উড়োজাহাজ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে সরবরাহ করা হবে। এটা তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখনো এয়ারবাসের প্রতি তাদের আগ্রহ বজায় রেখেছে এবং এ নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে সময়ক্ষেপণের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে ব্যাখ্যা করে জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে যোগ করেন, আমরা জানি এসব কাজে সময় লাগে। আমরা চাই আলোচনাগুলো সবচেয়ে সুন্দর ও নিখুঁতভাবে শেষ হোক, যাতে পরে কেউ বলতে না পারে যে কোনো ভুল ছিল বা আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। তাই এতে সময় লাগতেই পারে, তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি যে আলোচনা এখনও সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, আমি কারিগরি আলোচনার বিশদ বিবরণ দেব না। কারণ, সেই অনুমতি আমার নেই এবং আমি এয়ারবাসের হয়ে সরাসরি চুক্তি আলাপকারী নই। এটি কোনো ফরাসি সরকারের চুক্তি নয় বা যুক্তরাজ্য সরকারের চুক্তি নয়, এটি সরাসরি এয়ারবাস কোম্পানির চুক্তি; যা যথাসময়ে বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে। তাই আমি এটি নিয়ে একেবারে চিন্তিত নই। আমি অবশ্যই একটি সমান সুযোগের ওপর জোর দেব।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ