জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে কারখানা ও রপ্তানিতে, যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২২-০৯-২০২৬ ১২:০৬:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২২-০৯-২০২৬ ১২:০৬:১৭ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট না কাটতেই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়বে শিল্পের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ। ডিজেলের দাম বাড়ায় চট্টগ্রামের ২২টি কনটেইনার ডিপো এরই মধ্যে কন্টেইনার পরিবহন ও হ্যান্ডলিং চার্জ প্রায় ১০ শতাংশ বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আর বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চুক্তির মূল্য বাড়াতে চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়েছে বার্থ, শিপ হ্যান্ডলিং ও টার্মিনাল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন। এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা বহন করা কঠিন হওয়ায় রুগ্ন হওয়ার শঙ্কায় অনেক কারখানা, কমতে পারে রপ্তানিতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও।
গ্যাস কিংবা বিদ্যুৎ— চাহিদা অনুযায়ী কোনোটাই পাচ্ছে না শিল্পকারখানাগুলো। এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে গ্যাস সংকটে গত একমাসে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছিলো অধিকাংশ বস্ত্র ও ভারী শিল্প কারখানায়। বাড়তি দামে এলপি গ্যাস কিনে কোনোরকমে কারখানা সচল রেখেছে বড় শিল্প গ্রুপগুলো।
গ্যাস সংকট কিছুটা কাটলেও কমেনি লোডশেডিং। দিনে গড়ে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে কারখানা সচল রাখতে হচ্ছে জেনারেটর দিয়ে। এতে ডিজেল কিনতেই দৈনিক পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে কারখানাগুলোকে।
নতুন করে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়ায় খরচ বাড়বে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদেশি ক্রেতাদের দাম কমানোর চাপে টিকে থাকাই এখন কঠিন, তার ওপর জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিতে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে। টিকে থাকতে ভর্তুকিমূল্যে জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানান তারা।
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এখন ডিজেল, অক্টেন এবং পেট্রোলের দাম যে বাড়িয়েছে, এটার কারণে আমাদের শিল্পে সমস্ত ট্রান্সপোর্টেশন এবং জেনারেটরের কস্ট সরাসরি আমাদের এটাতে বেড়ে যাবে। প্রোডাক্টের কস্টিং বেড়ে গেলে সেটা আমাদের সক্ষমতা এবং আমাদের জন্য কঠিন পীড়া দেবে।’
বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বাড়তি খরচটা আমরা কখনো কস্টিংয়ের সঙ্গে হিসাব করিনি। সরকারের কাছে চাইবো, কমপক্ষে বাড়তি এই অংশটা যেন কয়েক মাস আমাদের ভর্তুকি হিসেবে দিয়ে দেয়।’
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানি পণ্যের সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ ব্যয় বাড়ায় অবধারিতভাবে বাড়বে পণ্যমূল্য— এমনটাই মনে করছেন ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, ‘র্যাপিডলি যখন কোনোকিছু হয়, সেটার ইম্প্যাক্টও একটু বেশি হয়। আমার সেটাই একটা আশঙ্কা করছি যে, একবারে ২০ টাকা জ্বালানির দাম বেড়েছে, এটার নেতিবাচক প্রভাব পরিবহণ খরচের ক্ষেত্রে পড়ার সম্ভাবনাটা বেশি। এটার কারণে একটু প্রোডাকশন কস্ট বাড়বে এবং পণ্যের মূল্যও কিছুটা বাড়বে।’
পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় গাড়িপ্রতি খরচ বেড়েছে গড়ে চার হাজার টাকা। এছাড়া টায়ার, লুব্রিকেন্টসহ যন্ত্রাংশ ও মেরামত খরচও এরই মধ্যেই বেড়েছে। ফলে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই, যা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে ভোক্তাকেই।
আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান রুবেল বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রামের একটা গাড়িতে কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার টাকা আমাদের খরচ বেড়েছে। আনুসঙ্গিক বিভিন্ন খরচসহ যেটা প্রায় পাঁচ হাজার টাকায় ঠেকবে।’
সবশেষ গত এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছিলো সরকার, দুই দফায় বেড়েছে ৩১ টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, একসঙ্গে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ালে তা সহনীয় পর্যায়ে থাকতো।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স