স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিসেম্বরের মধ্যেই জুলাই সনদের আলোচনা শেষ করে রিপোর্ট পেশ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২০-০৯-২০২৬ ০৭:৩১:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৯-২০২৬ ০৭:৩১:৪১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই জাতীয় সনদের সুপারিশ ও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সনদের মূল কাঠামোর বাইরে দেশ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এলে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি সভায় অংশ নিয়েছে। এসব দলের পক্ষ থেকে দুই থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কয়েকটি দল লিখিত বক্তব্যও দিয়েছে। অসুস্থতা বা অনিবার্য কারণে শেষ মুহূর্তে কোনো কোনো দলের প্রতিনিধি উপস্থিত হতে না পারলেও তাদের অবস্থান ইতিবাচক ছিল বলে জানান তিনি।
সনদে স্বাক্ষর করেনি বা বৈঠকে অংশ নেয়নি—এমন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও মতামত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সালাউদ্দিন আহমদ। তার ভাষ্য, নিবন্ধিত কিংবা অনিবন্ধিত যেকোনো দল লিখিত প্রস্তাব বা মতামত পাঠালে তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে কমিটি। কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংসদ সচিবালয় ও বিশেষ কমিটি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি সভা করবে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছে। ফলে নতুন করে আগের সংস্কার কমিশনগুলোর প্রস্তাব হুবহু যুক্ত করা হলে পুরো প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো তারা নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।
সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই ধারণা সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সংসদে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, নাকি মোট প্রদত্ত ভোটের আনুপাতিক হারে—এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলেও সংবিধান সংশোধনের আইনগত ক্ষমতা নিম্নকক্ষের কাছেই থাকবে।
বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব করছে—এমন অভিযোগও নাকচ করেন সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি এ ধরনের দাবিকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের প্রস্তাবের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে ৩০ জুন অর্থবছর শেষ হওয়ায় শেষ প্রান্তিকে তাড়াহুড়ো করে অর্থ বরাদ্দ ও ছাড় করার প্রবণতা দেখা যায়। একই সময়ে বর্ষা মৌসুম থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হয়, কাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের সুযোগ বাড়ে।
এসব সমস্যা কমাতে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও ঋতুচক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ পরিবর্তন কার্যকর করতে সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের দুটি জায়গায় সংশোধন প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধান পুনর্লিখনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত ও স্বাধীন রাষ্ট্রে নতুন করে সংবিধান পুনর্লিখন বা আলাদা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধানের কোনো ধারা সংশোধন করাও এক ধরনের সংস্কার।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে সময়ের প্রয়োজন ও জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত কোনো সরকার সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে বা অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধানে পরিবর্তন আনতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। সংসদীয় বিষয়াবলি ও আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স