ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলের ফসলি মাঠ এখনও পানির নিচে

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৯-২০২৬ ০১:৩৪:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৯-২০২৬ ০১:৩৪:২৩ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলের ফসলি মাঠ এখনও পানির নিচে ফোকাস বাংলা নিউজ
পাবনার ঈশ্বরদীতে কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা পদ্মা নদীর পানিতে কিছুটা কমতির প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় গত কয়েক দিনের চাইতে পানি অনেকটা কমেছে। তবে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা, ফসলের মাঠ ও চরাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় এখনও দুর্ভোগ ও উদ্বেগ কাটেনি স্থানীয়দের।

গত কয়েকদিনের পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। কোথাও ফসলের জমি তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

সাঁড়া ইউনিয়নের সাঁড়া ঘাট, ইসলামপাড়া, কোমরপুর ও মাজদিয়াসহ আশপাশের এলাকায় পদ্মার পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। নদী তীরবর্তী কিছু এলাকায় ভাঙনও দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।

সাঁড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে নদী রক্ষা বাঁধ নেই। পানি বাড়ার সময় খুব দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। নদীর পানি বাড়ায় আশপাশের ফসলি জমিতেও পানি উঠেছে।

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কৈকুন্ডা গ্রামের  আব্দুল আউয়াল জানান, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক জমিতে কলা, গাজর, মুলা, করলাসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়েছিল। পানিতে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পানি ওঠায় চরাঞ্চলে গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেক বাথান থেকে গরু-মহিষ সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ইটভাটায় পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পানির প্রভাবে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাটেও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ফুচকা, খাবার, ফলমূল ও খেলনার কয়েকটি দোকানে পানি ওঠায় ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী তাদের মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ফুচকা বিক্রি করা মনোয়ারা খাতুন বলেন, দোকানের জায়গায় পানি উঠে যাওয়ায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। পানি বাড়ার কারণে আগের মতো মানুষও এখানে ঘুরতে আসতে পারছেন না।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দেখতে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বেড়েছে শুনে দেখতে এসেছিলাম। এসে দেখি ব্রিজের নিচের অনেক দোকানে পানি উঠেছে। ব্যবসায়ীরা দোকান সরিয়ে নিচ্ছেন।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি পরিমাপের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডার সেতু আক্তার জানান, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৬১ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার একই সময়ে তা ছিল ১২ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে আজ শনিবার বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৬১ সেন্টিমিটার। যা গতকালের চেয়ে আজ সকালে ১০ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। 
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ