বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৭-০৯-২০২৬ ০৩:২০:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৭-০৯-২০২৬ ০৩:২০:৩৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে ফ্রান্সের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারেল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারেল দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হুমায়ুন কবির পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় বাংলাদেশে আরও বেশি ফরাসি বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মহাকাশ গবেষণা, প্রযুক্তি ও ওষুধ শিল্পসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
বৈধ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশের ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনকে ঘিরে দুই দেশের অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও নিজেদের অঙ্গীকারের কথা জানায়।
রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারেল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াতে ফ্রান্সের প্রস্তুতির কথা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারেও ফ্রান্সের আগ্রহের কথা জানান রাষ্ট্রদূত।
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ফ্রান্সের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ প্রস্তুতির কথা জানায়।
সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সহযোগিতা আরও বাড়লে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উভয়পক্ষ।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স