ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, দুই আইনজীবীকে তলব
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৬-০৯-২০২৬ ০৭:৩০:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-০৯-২০২৬ ০৭:৩২:২৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘অবৈধ’, ‘মিথ্যা’, ‘বানোয়াট’ ও ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে প্রসিডিংস জারির আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। অভিযুক্ত দুই আইনজীবী হলেন মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে দুই আইনজীবীকে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান তুষার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রায়ের একটি সংবাদ শেয়ার করে লেখেন, ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ, মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন রায়ের তীব্র নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই এবং ঘৃণাভরে এই রায় প্রত্যাখ্যান করি। রাজপথে সবকিছুর ফয়সালা হবে।’
ওই পোস্টের নিচে মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী মন্তব্য করেন, ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখ্যান করছি।’ পরে তুষার একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে আরও একটি পোস্ট দেন বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানায় প্রসিকিউশন।
এই প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনাল ও এর কার্যক্রম নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তবে সাধারণ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক কর্মীদের বক্তব্য প্রসিকিউশন উপেক্ষা করেছে। কিন্তু অভিযুক্ত দুজন আইনজীবী হওয়ায় তাদের বক্তব্য আদালতের নজরে আনা হয়েছে। কারণ, আইনজীবীরা আদালতের কার্যক্রম ও রায়ের বিরুদ্ধে কী ধরনের বক্তব্য দেওয়া যায়, সে বিষয়ে অবহিত বলে প্রসিকিউশনের দাবি।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ওই বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশন ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ১১(৪) ধারা উল্লেখ করে জানায়, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, কোনো পক্ষ বা সাক্ষীকে হুমকি দেওয়া, আদালত অবমাননাকর কোনো কার্যক্রম করা কিংবা ট্রাইব্যুনালের আদেশ অমান্যের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানানো হয়।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স