পবিত্র মক্কায় সতর্কতা জারি, হুথি-সৌদি সংঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৫-০৯-২০২৬ ০৫:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৫-০৯-২০২৬ ০৫:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বিরল সতর্কতা জারি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সতর্কতা জারি করার কিছুক্ষণ পর তা প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে জেদ্দা ও তাইফ শহরেও সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম মক্কায় এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হলো। পবিত্র মক্কায় ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা কাবা শরিফ অবস্থিত হওয়ায় এ সতর্কতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেন থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন আহত হন বলে জানা গেছে। এর জবাবে সৌদি আরবও হুথিদের অবস্থানে পাল্টা হামলা চালায়।
হুথিদের দাবি, গত পাঁচ দিনে সৌদি আরব তাদের লক্ষ্য করে তিন শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিরা জানায়, সৌদি এফ-১৫, ইউরোফাইটার টাইফুনসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলা অব্যাহত রাখলে সংঘাত আরও বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে তারা।
এরই মধ্যে সৌদির খামিস মুশাইতের বাদশাহ খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। তাদের ভাষ্য, কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ওই সময় হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। পরের বছর ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। দীর্ঘ সময় বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলা না হলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স