ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ ফগার মেশিনের ৬টিই নষ্ট

রাজবাড়ীতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০২:০২:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০২:০২:৩২ অপরাহ্ন
রাজবাড়ীতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসী ছবি : সংগৃহীত
রাজবাড়ী পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী। সন্ধ্যা নামার পর থেকে ঘরে-বাইরে মশার উৎপাত বেড়ে যাচ্ছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। এর মধ্যে পৌরসভার মশা নিধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৮টি ফগার মেশিনের মধ্যে ৬টিই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা না করায় বিভিন্ন এলাকায় মশার ঘনত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে ড্রেন, নালা, ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা স্থানগুলোতে মশার প্রজনন বাড়লেও কার্যকরভাবে মশক নিধন করা হচ্ছে না। ফলে দিনের তুলনায় সন্ধ্যা ও রাতে মশার উপদ্রব আরও বেড়ে যায়।

পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মশক নিধনে পৌরসভার মোট ৮টি ফগার মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। সচল রয়েছে মাত্র ২টি মেশিন। সীমিত সংখ্যক মেশিন দিয়ে পুরো পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৭ জন, জুলাইয়ে ২২ জন, আগস্টে তিনগুণ বেড়ে হয় ৬৮ জন। আর সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ৬৪ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৬ জন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি রয়েছে ১০ জন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মশার যন্ত্রণায় সন্ধ্যার পর দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে তারা বেশি উদ্বিগ্ন। দ্রুত নষ্ট ফগার মেশিনগুলো মেরামত অথবা প্রয়োজনীয় নতুন মেশিন সংগ্রহ করে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সময়ে রাজবাড়ী পৌর এলাকায় মশার এমন উপদ্রবকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, শুধু ফগিং নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-নালা পরিষ্কার এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা টিএনটি পাড়া এলাকার বাসিন্দা ইয়াছিন মুন্সি বলেন, মশার যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে থাকা তো দূরের কথা, ঘরের ভেতরেও মশার উপদ্রব সহ্য করা কঠিন। নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। পৌরসভার পক্ষ থেকে দ্রুত নিয়মিত ফগিং ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

আরেক বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। নিয়মিত ফগিং না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দ্রুত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।

কাজিকান্দা এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, মশা নিধনে শুধু ফগিং করলেই হবে না, মশার প্রজননস্থলগুলোও ধ্বংস করতে হবে। ড্রেন-নালা ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে মশার উৎপাত কমবে না।

এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারিভাবে দেওয়া নির্দেশনার আলোকে আমরা সর্বাত্মকভাবে কাজ করছি। পৌরসভার দুটি সচল ফগার মেশিন দিয়ে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে। পৌরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, নষ্ট থাকা ছয়টি ফগার মেশিন দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এগুলো সচল হলে আটটি মেশিন দিয়েই মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

পৌরবাসীর দাবি, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নষ্ট মেশিনগুলো সচল করার পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিতভাবে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হোক।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ