ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল্প-কারখানায় সংকট

মঙ্গলবার থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৩:২১:০৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৫:০৪:২৬ অপরাহ্ন
মঙ্গলবার থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ছবি : সংগৃহীত
শিল্প-কারখানাগুলোতে মঙ্গলবার রাত থেকে সংকট শুরুর আগের মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের প্রথম সারির ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভাটি প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সভা শেষে ব্যবসায়ী নেতারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

ফজলুল হক বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ জ্বালানি সমস্যায় কমবেশি ভুগছিলেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট হওয়ার আগে যে অবস্থায় ছিল, আগামীকাল রাত থেকে সেই অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।’

সভায় আগামী দিনে দেশে কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন হবে, তার একটি পরিষ্কার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক। তার মতে, এর মাধ্যমে শুধু চলমান সংকটের সমাধান নয়, শিল্পের বিকাশ ও বিনিয়োগের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে। জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়েও ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সভায় কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং পরে আরও দুটি; মোট পাঁচটি এফএসআরইউ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার। ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ-এর কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে, যাতে গ্যাসের সমস্যার সমাধান করা যায়।

মধ্যমেয়াদে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ শেষ হওয়ার পর আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হবে। এফএসআরইউর পাশাপাশি ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল ও গ্যাসলাইন স্থাপনসহ বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান মাহদী আমিন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস ও কয়লার সমন্বিত ব্যবহারের ওপর জোর দেয়ার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সরকার সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে তৈরি হওয়া পুঞ্জিভূত সমস্যা একদিনে কিংবা এক মাস বা এক বছরে পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়; তবে সরকারের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা আছে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। আজ সেটি উপস্থাপন করা হয়েছে।’

প্রতিটি সমস্যাই নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের মতবিনিময় অব্যাহত থাকবে।
  
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ