বিনা দরপত্রে মালামাল বিক্রির অভিযোগে তোলপাড় বিআরটিএ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০৪:০৮:৫২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০৫:০১:৪২ অপরাহ্ন
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আনুষ্ঠানিক দরপত্র ছাড়াই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দুই কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত মালামাল অপসারণের নামে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে চলছে নানা পায়তারা । অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্মতিতেই এই কাণ্ড ঘটেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল, তা পুরোনো হোক বা পরিত্যক্ত- বিনা দরপত্রে বিক্রি করা অপরাধ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কেউই ছাড় পাবেন না। বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ তদন্তে কর্তৃপক্ষ কমিটি গঠন করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১ জুলাই থেকে ৫ জুলাই একটানা প্রায় চার দিন ধরে বিআরটিএ’র হেড অফিসের পার্কিংয়ের তিনটি তলায় বিভিন্ন জায়গায় থাকা মালামাল ট্রাক বোঝাই করে সরানো হয়। ওই সময় সিসিটিভি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, প্রশাসন (এডি এডমিন) মো. সিদ্দিকুর রহমানের 'বিশ্বস্ত' হিসেবে পরিচিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী জন দাশ ওরফে জনি দাশ লোকজন নিয়ে মালামালগুলো অপসারণ করে। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রথমে বাধা দিলেও পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তাদের চুপ থাকতে হয়।
জানা যায়, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় বিআরটিএ অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব মালামাল পার্কিংয়ে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনা জানাজানি হলে ডালাপালা মেলে নানা গুঞ্জন। অভিযোগ রয়েছে, এডি এডমিন সিদ্দিক মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে তা সামলানোর দায়িত্ব উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সামিউল মাসুদের উপর দেন। আর তিনি তা ধামাচাপা দিতে গিয়ে পুরো বিষয়টি লেজেগোবরে করে ফেলেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে তৈরি করা হয় কিছু কাগজপত্র। মালামাল বিক্রির টাকা কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে, এমন কথাও চাউর করা হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনমতে, এই অনিয়মে সম্মতি রয়েছে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, পরিচালক (প্রশাসন) নাজনীন হোসেন, সহকারি পরিচালক (সাধারণ) আব্দুল আউয়ালসহ প্রশাসন শাখার বেশিরভাগ কর্মকর্তার। টাকার ভাগ উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সবাই পদমর্যাদার ভিত্তিতেই পেয়েছেন বলে দাবি করা হয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে।
বিএরটিএর সহকারী পরিচালক, প্রশাসন (এডি এডমিন) সিদ্দিকুর রহমান পুরো বিষয়টিই অস্বীকার করেছেন। তিনি বাংলাস্কুপকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বলেন, কোনো ধরনের মালামাল বিক্রি হয়নি। আমি এখানে বদলি হয়ে আসার পর দেখেছি, ইতিপূর্বে অন্য বিষয়ে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। এগুলোর খোঁজখবর নিতে গিয়ে দেখি, সংশ্লিষ্ট নথিগুলোও গায়েব করে দেয়া হয়েছে। ভালো কাজ করতে গিয়ে আমার এখন অনেক শত্রু হয়ে গিয়েছে। আমার জন্য দোয়া করবেন।
এদিকে উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সামিউল মাসুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে এডি এডমিন সিদ্দিকুর রহমান রোববার দুপুর তিনটায় জানিয়েছেন, দুপুর আড়াইটার পর সামিউল মাসুদের বুকে ব্যথা অনুভব হলে তাঁকে অন্য কর্মকর্তারা জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সামিউল মাসুদ সংস্থাটিতে বদলি হয়ে আসার পর থেকেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এখতিয়ার-বহির্ভূতভাবে অনেক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করেন। এতে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তাঁরা আরো অভিযোগ করেন, সামিউল মাসুদ প্রশাসন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক নাজনীন হোসেন ও এডি এডমিন সিদ্দিকুর রহমান এবং সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন রকম অনিয়মের কাজ অনুমোদন করিয়ে নেন। এছাড়াও গত দুই/তিন মাসে বেশকিছু বদলির ঘটনায় তাঁর অর্থ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামিউল মাসুদ বদলি হয়ে আসার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে সারা দেশের অপারেশনাল কর্মকাণ্ডেও অযৌক্তিকভাবে নির্দেশনা দেন। এতে বিআরটিএর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটছে।
এ বিষয়ে বিএরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স