ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাতিজার পর একই কায়দায় চাচাকে কুপিয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০৩:০১:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০৩:০১:২৩ অপরাহ্ন
ভাতিজার পর একই কায়দায় চাচাকে কুপিয়ে হত্যা ছবি : সংগৃহীত
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভাতিজার রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই এবার চাচাকেও কুপিয়ে হত্যা করছে দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র সুমন শেখ হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাসের মাথায় তার চাচা রবিউল শেখ (৫০) একই কায়দায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডে বড়ভাগ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া।

রবিউল শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। জীবিকার তাগিদে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে তিনি চায়ের দোকান দিয়ে জীবীকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে রাতে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হলেন তিনি।

আহত তিনজন হলেন—মুক্তার বিশ্বাস (৫০), লিটন খান (৪০) ও হৃদয় শেখ (২০)। তাদের কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তার বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে দোকান বন্ধ করে কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন রবিউল শেখ। উপজেলার উত্তর মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় রবিউলকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। 

স্থানীয়রা জানান, হামলায় রবিউলের দুই হাত ও দুই পাসহ মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাতে এ হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বড়ভাগসহ আশপাশের এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। একই পরিবারের একজনের হত্যার ক্ষত শুকানোর আগেই আরেকজনকে হারানোর ঘটনায় এলাকায় তৈরি হয়েছে গভীর উৎকণ্ঠা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে ও কাশিয়ানীর এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন শেখ নিহত হন। রবিউল ছিলেন সুমনের চাচা। সুদমন হত্যার আগে থেকেই একই গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখের সঙ্গে সুমনের পরিবারের বিরোধ চলছিল বলে জানান স্থানীয়রা।

সুমন হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার জের, পুরোনো বিরোধ ও প্রতিশোধের ধারাবাহিকতায় রবিউল হত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আলফাডাঙ্গা থানার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। আগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা জামিনে বের হয়ে বাদীপক্ষের একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন বলে তথ্যও পাওয়া গেছে। এটি আগের ঘটনার রেশ নাকি নতুন কোনো বিরোধ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রমজান নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ- এমনটা স্থানীয়রা দাবি করলেও এ বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য পাওয়া যায় নাই।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মাসুদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ