নাটোরে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ঠাঁই নেই হাসপাতালে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১১-০৯-২০২৬ ০৩:৪৫:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১১-০৯-২০২৬ ০৩:৪৫:২৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
হঠাৎ করেই নাটোরে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১০৬ জন ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ডায়রিয়ার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ১০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ এবং ৪৭ জন নারী ও শিশু। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ নাটোর পৌরসভার কানাইখালী, কান্দিভিটা, চকরামপুর, পটুয়াপাড়া, রামাইগাছি ও বড় হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা।
হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। শয্যা না পেয়ে কয়েকজন রোগীকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমা বেগম জানান, বুধবার সকালে খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ পাতলা পায়খানা, বমি ও পেটব্যথা শুরু হয়। পরে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় তার শাশুড়ি ও ননদদেরও।
পরিবারের সবাই সরবরাহের পানি ব্যবহার করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই পানি থেকেই অসুস্থতা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
কানাইখালী এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলামও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। প্রথমে সামান্য পাতলা পায়খানা হলেও পরে তা বেড়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে এসে নিজের এলাকার আরও অনেক মানুষকে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে দেখেছেন বলে জানান রবিউল।
তবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্তদের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাটোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রাখা হয়েছে।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, মৌসুম পরিবর্তনের সময়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বাড়লেও এবার রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। গত এক সপ্তাহে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫১৬ জন ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন। এর পাশাপাশি প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছেন।
সিভিল সার্জন আরও জানান, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়তি স্যালাইন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার বা রোববার নতুন করে স্যালাইনের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স