ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনে অস্বস্তিতে পর্যটকেরা

কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধের স্লোপে ফের অসংখ্য স্থাপনা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১০-০৯-২০২৬ ০৫:৩৯:০৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১০-০৯-২০২৬ ০৫:৩৯:০৩ অপরাহ্ন
কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধের স্লোপে ফের অসংখ্য স্থাপনা ​সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকত ও তৎসংলগ্ন মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণের কাজ করতে গিয়ে বাঁধের স্লোপে থাকা বসতঘরসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা অপসারণের জন্য ৬৭৩টি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। ২০১৮-২০১৯ সালে এই টাকা পরিশোধ করে বাঁধটির উন্নয়ন কাজ করা হয়। এর মধ্যে সাগরঘেঁষা ২২ কিলোমিটার এলাকা মেরিন ড্রাইভ আদলে করা হয়েছে। উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্পের (সিআইপি-১) বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ মেরামত কাজের আওতায় এই কাজ করা হয়েছে। অথচ ওই বাঁধের স্লোপে ফের নতুন করে ছোট্ট ছোট্ট শতাধিক স্থাপনা তোলা হয়েছে। 

কুয়াকাটা পৌর এলাকার ঝাউবাগান এলাকা থেকে মিড়াবাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্ক পর্যন্ত বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে এইসব স্থাপনা তোলা হয়েছে। ফলে পর্যটকরা চৌরাস্তায় নেমে সাগরের মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন না। তাঁদের চোখের সামনে দোকানপাট স্থাপনায় একাকার হয়ে গেছে। সাগরের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব দোকানপাট। অপরদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ কাজের সময় এসব স্থাপনার মালিকদের ক্ষতিপুরন দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ফের স্থাপনা তোলায় সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি বাঁধের স্লোপের ক্ষতি করা হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এক ধরনের ঘিঞ্জি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

অথচ কুয়াকাটার পর্যটকদের ভ্রমণে স্বস্তি ফেরাতে লতাচাপলী ও ধুলাসারের একাংশ মিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় করে বাঁধের যাবতীয় কাজসহ তখন নয়টি স্লুইসগেট মেরামত ও নতুন করে করা হয়েছে। বাঁধের স্লোপে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে। গাছ লাগানো হয়েছে। চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে লেম্বুরবন মোহনা পর্যন্ত সাগরের অব্যাহত ভাঙন থেকে বাঁধ রক্ষায় ব্লক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যটকের এসব পদক্ষেপ কাজে আসছে না।

যদিও এই বাঁধটির গুরুত্ব একমাত্র কুয়াকাটার লগ্নিকারকরা অনুধাবন করতে পারছেন। এখন পর্যটকরা কুয়াকাটায় এসে শুন্য পয়েন্টে তেমন উপভোগ করতে পারছেন না। কারণ, সেখানে ভাঙনে শতছিন্ন, শ্যাওলা ধরা জিও ব্যাগ-জিওটিউবের ঝুঁকি রয়েছে। আঘাতের ঝুঁকি বেড়েছে প্রবল ভাঙনে কংক্রিটের বিভিন্ন ধরনের ভগ্নাংশের কারণে। ফলে পশ্চিম দিকটায় পর্যটকরা ঘুরছেন। উপভোগ করছেন সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য। সাগরের ঢেউয়ে গোসল করছেন। মেতে উঠছেন নিজের মতো করে, ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করছেন। কিন্তু গত তিন মাসে প্রায় দেড়-দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সাগরের তীরের পাশের বাঁধের স্লোপে অসংখ্য ছোট্ট ছোট্ট স্থাপনা তোলা হয়েছে। করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট। ফলে পর্যটকরা মারাত্মক অস্বস্তিবোধ করছেন। বিব্রতবোধ করছেন। এসব স্থাপনা তোলার সঙ্গে কারা জড়িত, কারা সুবিধা নিয়েছেন, এনিয়েও রয়েছে মুখরোচক গল্প।

নাজিয়া রহমান নামের এক পর্যটক ক্ষোভের সঙ্গে বীচ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের উদাসীনতায় এমন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। অধিকাংশ পর্যটকের কাছে এসব স্থাপনা অস্বস্তির প্রধান কারণ হয়ে গেছে। তাঁরা বাঁধে হেঁটে কিংবা গাড়িতে চড়ে সাগরের দৃশ্য অবলোকনের সুযোগ নিশ্চিতের কথা বলেছেন।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপসারণ করা না হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহআলম জানালেন, এসব স্থাপনা অপসারণে তাঁরা উপজেলা-জেলা প্রশাসনকে নিয়ে যৌথ উদ্যোগে অপসারণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ