ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ইসরায়েলি বসতির পণ্যে ১২ দেশের কড়া বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৭:০৮:২৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৭:০৮:২৫ অপরাহ্ন
​ইসরায়েলি বসতির পণ্যে ১২ দেশের কড়া বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ​ছবি: সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিতর্কিত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে এবার কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিতে একজোট হয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাসহ বিশ্বের ১২টি দেশ।

আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত এসব বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যে কঠোর বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যৌথ জোটটি। গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বাণিজ্য বন্ধের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য।

​যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক নীতি লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি বসতির কোনো পণ্য নিজ নিজ দেশের বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়েও এ জাতীয় বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রস্তাবকে তারা পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যেই সরাসরি আমদানি নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।
এই বিষয়ে দেশটির পার্লামেন্টে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, "অন্যায় ও মানুষের দুর্ভোগের সমালোচনা করে শুধু বসে থাকার আর সুযোগ নেই। অবৈধ বসতি স্থাপন ঠেকাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।"

ফ্রান্স ও কানাডাও সমমানের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই কার্যকর করতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

​তবে এই জোটে অংশ নিচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাজ্য ও তাদের মিত্রদের গৃহীত নীতি অনুসরণ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিম তীর জুড়ে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক, তা মার্কিন প্রশাসন সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

​অন্যদিকে এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অবরোধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার। ব্রিটিশ সরকারের আনা সকল অভিযোগকে 'জঘন্য মিথ্যা' হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি দেন তিনি।

এর জের ধরে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ফিলিস্তিনি সংক্রান্ত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশন থেকে যুক্তরাজ্যকে বাদ দেওয়া এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বাহিনীকে দেওয়া ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি।

​আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে গড়ে ওঠা সমস্ত ইসরায়েলি বসতি ও আউটপোস্ট সম্পূর্ণ বেআইনি। ফিলিস্তিনি সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে এসব এলাকায় ১৯২টি বসতি ও প্রায় ৪০০টি আউটপোস্টে আনুমানিক ৭ লাখ ৮০ হাজার ইসরায়েলি নাগরিক বসবাস করছেন। তা ছাড়া জেরুজালেমের নিকটে ই-ওয়ান বসতি সম্প্রসারণের নতুন উদ্যোগ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে গোটা পশ্চিম তীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে, যা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সকল সম্ভাবনাকে চিরতরে বিনষ্ট করতে পারে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ