হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত পৌনে দুই লাখ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-০৯-২০২৬ ০৪:৫০:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-০৯-২০২৬ ০৫:১৫:৫৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংক্রমণে সন্দেহজনক ও পরীক্ষায় নিশ্চিত—দুই ধরনের হিসাব মিলিয়ে হামে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ৯০২ জন এবং পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষাগারে আরও ৬৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনে। আর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জন।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।
একদিনে নতুন ভর্তি ১,০৩৪, ছাড়পত্র ৯৬৯ জনের
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৯৬৯ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।
ঢাকা ও ময়মনসিংহে প্রাণহানি বেশি
বিভাগভিত্তিক হিসাবে হামের সংক্রমণ ও প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ হাজার ৩৮ জন। সন্দেহজনক ও নিশ্চিত—দুই হিসাব মিলিয়ে মারা গেছেন ৪৬৭ জন। এর মধ্যে সন্দেহজনক মৃত্যু ৪০৪টি এবং নিশ্চিত মৃত্যু ৬৩টি।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৬৮ জন। তবে তুলনামূলক কম আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক। এ বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগে ৭৭ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে যে তিনজন সন্দেহজনক হাম রোগে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের দুজন এবং ঢাকা বিভাগের একজন রয়েছেন।
জেলা পর্যায়ে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ঢাকা জেলাকে হামের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
টিকাদানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী জোরদার টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬-এর আওতায় দেশের আট বিভাগে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭৩ শিশু। এতে টিকাদানের কাভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও লক্ষ্যমাত্রার ১০৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হতে হবে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সর্দি-তুথুর সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এ রোগ।
হামের প্রধান লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া। এরপর মুখ, কান ও গলার আশপাশ থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লালচে গুটি বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। মুখ ও মাড়ির ভেতরেও ছোট সাদাটে দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। যেসব শিশু এখনো হাম-রুবেলার টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স