ঢাকা , বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিস্ফোরক তথ্য গবেষকের

চলতি দশকেই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এআই!

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৩:১০:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৩:১০:০৫ অপরাহ্ন
চলতি দশকেই মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এআই! ​ছবি: সংগৃহীত
ওপেনএআই-এর কাছে বিপদের মাত্রাটি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কিন্তু অ্যানথ্রোপিকের কাছে তা স্পষ্ট। তবে, প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়ার ভয় এখন ঝুঁকির চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে- এমনটাই দাবি গবেষক জ্যাকব কক্সনের।

তিন বছর কাজ করার পর এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ থেকে পদত্যাগ করেছেন ২৭ বছর বয়সী এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন। শুধু শান্তভাবে চাকরি ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এসে সরাসরি একটি বিতর্কিত বোমা ফাটিয়েছেন তিনি।

এক বার্তায় তিনি লেখেন, 'আজ আমি অ্যানথ্রোপিক থেকে পদত্যাগ করেছি। গত তিন বছর ধরে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিক-উভয় প্রতিষ্ঠানেই প্রি-ট্রেনিং রিসার্চার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তারা নিজেদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্নত করতে সক্ষম ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরির অন্ধ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে এবং আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।'

এটি ছিল কেবল সূচনা। ভাইরাল হওয়া সেই থ্রেডে কক্সন এমন এক মন্তব্য করেন যা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে:

'যারা এই এআই তৈরি করছেন, তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষেই এটি মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এটি কোনো মার্কেটিং স্টান্ট নয়। যদিও বহু নির্বাহী ও সিনিয়র গবেষক সংবাদমাধ্যমের সামনে সচেতনভাবে হিসাবি কথা বলেন, কিন্তু ব্যক্তিগত আলোচনায় আমি তাদের এই ভয় প্রকাশ করতে শুনেছি। মানব ইতিহাসের অন্য কোনো কাজ এই মানের ঝুঁকি তৈরি করেনি।'

ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, 'এই প্রযুক্তির ক্ষমতাকে খাটো করে দেখবেন না। খুব শীঘ্রই এমন অতিমানবীয় এআই সিস্টেম আসবে যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে পারে, রাতারাতি যেকোনো খাতকে বদলে দিতে পারে এবং বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। প্রযুক্তিটির এই অগ্রগতি কিন্তু থেমে নেই।'

তবে কেন এটি তৈরি করা হচ্ছে?
এআই প্রতিযোগিতার মূল বিষবৃক্ষটি ধরে টান দিয়েছেন কক্সন। তার মতে, ওপেনএআই-এর গবেষকরা মানবসভ্যতার ওপর এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব এখনো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি। অন্যদিকে, অ্যানথ্রোপিক বিষয়টি অনুধাবন করতে পারলেও লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ার ভয়ে কাবু।

'অ্যানথ্রোপিক জানে ঝুঁকি কতটা, কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে দৌড়ে আটকে গেছে। তাদের বিশ্বাস, অন্য কেউ দায়িত্বশীল হবে না, তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাদেরই আগে এটি করতে হবে।'-বলেন কক্সন।

প্রযুক্তি জগতের ভেতরের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আপনি যদি কোনো ল্যাবের গবেষক হন, তবে ভাবুন আগামী কয়েক বছর কেমন হতে যাচ্ছে। একটি সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই রান চালুর আগে কি এর ভেতরের মানসিকতা না বুঝেই এগোবেন? ‘এটি এমনিতেও হবে’ ভেবে মাথা নিচু করে থাকবেন, নাকি এখনই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবি তুলবেন?'

অ্যানথ্রোপিকের প্রতিক্রিয়া
জ্যাকবের এই বার্তার জবাবে অ্যানথ্রোপিকের অ্যালাইনমেন্ট সাইন্স লিড ইভান হাব্রিঙ্গার বলেন, 'জ্যাকব একদম ঠিক বলেছেন-আমরা সত্যিই মনে করি এআই সমস্ত মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, আগামী এক দশকের মধ্যে এর সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। অ্যানথ্রোপিক তার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে, তবে সুপারইন্টেলিজেন্সকে নিয়ন্ত্রণের নিখুঁত কোনো পরিকল্পনা এখনো আমাদের হাতে নেই।'

ইলন মাস্কের অবস্থান
কক্সনের পদত্যাগের মাত্র দুই মাস আগে, অ্যানথ্রোপিকের দীর্ঘদিনের সমালোচক ইলন মাস্ক তার অবস্থান পুরোপুরি বদলে ফেলেন। অতীতে তিনি ‘ক্লড’-কে ক্ষতিকর ও সভ্যতার জন্য হুমকি বললেও, জুলাই মাসে তিনি মন্তব্য করেন, 'অ্যানথ্রোপিক সম্পর্কে আমার ধারণা ভুল ছিল। তারা স্পষ্টভাবে এখন এআই জগতে নেতৃত্ব দিচ্ছে।'

কক্সনের এই পদত্যাগ হয়তো এআই প্রতিযোগিতার গতি এক রাতে থামিয়ে দেবে না, তবে ভেতরে থাকা একজন অভিজ্ঞ গবেষকের এই সতর্কবার্তা নিশ্চিতভাবেই নতুন এক সতর্কঘণ্টা বাজিয়ে দিল। সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ