ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাড় ভাঙছে তিস্তার, আতঙ্কে নির্ঘুম তীরবর্তী মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ০৩:১০:১১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ০৩:১০:১১ অপরাহ্ন
পাড় ভাঙছে তিস্তার, আতঙ্কে নির্ঘুম তীরবর্তী মানুষ ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীতীরের বাসিন্দারা। ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তিস্তা পাড়ের কয়েক একর ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি। নদীভাঙন ও বন্যায় জীবনের সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, ডাক্তারপাড়া, ভারতপাড়া ও দালাল পাড়ার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে নিঘুর্ম রাত কাটাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ ভাঙন ঠেকাতে তেমন কাজে আসছে না।

হোকডাঙ্গার মাঝিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবলু চন্দ্র দাস আক্ষেপ করলেন, বাপ-দাদার সমস্ত সম্পদ অনেক আগেই তিস্তা গ্রাস করেছে। কয়েক দফায় বসতবাড়ি তিস্তায় ভেঙে যাওয়ার পর এখানে বেশ কয়েক বছর থেকে আছি। প্রায় সাত দিন হলো তিস্তা আমার ঘরের অর্ধেক ভেঙে নিয়েছে। এ মুহূর্তে কোথাও ঠাঁই নেওয়ার অবস্থা নেই।’

নদীতীরের বাসিন্দা সুশান্ত, মনোরঞ্জন, গোপাল ও দুলাল চন্দ্র জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে তারা ভাঙনের ঝুঁকিতে আছেন। এরই মধ্যে ডাক্তার পাড়ার প্রায় ৮ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে নদী তীরবর্তী ৪ গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে নামমাত্র কাজ করছে পাউবো। তবে প্রতিবারের মতো তাদের পক্ষ থেকে ফেলা হচ্ছে জিওব্যাগ। তবে তা কোনো কাজে আসছে না। উপজেলা প্রশাসনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ জানান তারা।

স্থানীয় ফুলবাবু, বেলাল হোসেন, খুদিরাম জানিয়েছেন, তিস্তার বাম তীরে ভাঙন রোধে উপজেলার দলদলিয়া, থেতরাই, গুনাইগাছ ও বজরা ইউনিয়নে তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে পাউবো। শুধু হোকডাঙ্গা এলাকার মাত্র ১ কিলোমিটার এলাকায় তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন না করায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তারা।

থেতরাই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘ভাঙন ঠেকাতে পাউবো ৬ হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দিয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ টি এম আরিফ জানিয়েছেন, ভাঙন ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ১০০ জিওব্যাগ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানকে পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‎কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ওই এলাকার নদী ভাঙন রোধে এরই মধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ