ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিলস আয়োজিত কর্মজগতের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৩:১০:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৪-০৯-২০২৬ ০৩:১০:৪১ অপরাহ্ন
বিলস আয়োজিত কর্মজগতের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সিম্পোজিয়াম  অনুষ্ঠিত ফোকাস বাংলা নিউজ
পরিবর্তনশীল বিশ্ববাজার, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান রক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার শ্রমিকদের তথ্য আগাম জানা, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষার আওতায় আনা এবং নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর এক সিম্পোজিয়ামে বক্তারা গুরুত্বারোপ করেছেন। 

নীতিনির্ধারক, শ্রমিক প্রতিনিধি, নিয়োগকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগীদের একই মঞ্চে এনে শোভন কাজ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে "কর্মজগতের ভবিষ্যৎ: সবার জন্য শোভন কাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার" শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্‌স। সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আব্দুর রহিম, আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের অতিরিক্ত মহাসচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম ও শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স এর জেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মেসবাহউদ্দীন আহমেদ। বিলস এর চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান ভূঞাঁর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলস এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।

শ্রমজগতের বিদ্যমান ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সমন্বিত আলোচনা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ের ওপর বক্তারা গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই উৎপাদন অর্থনীতিতে রূপান্তরে দক্ষ শ্রমশক্তি, নারীর অংশগ্রহণ ও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর করার জন্য আমাদের লক্ষ্য হতে হবে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত হবে এবং উন্নয়ন হবে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী। বাংলাদেশের কার্যকর ও সফল উদ্যোগগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ ও উৎপাদন কাঠামো গড়ে তোলাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ও শিল্পায়নকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থান আনুষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির নীতির ধারাবাহিক ফল, যা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নারীর অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি করতে হবে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে। এর মাধ্যমে দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাসম্পন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।

অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, আইন বাস্তবায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম একটি নতুন উদ্যোগ এবং এটি হবে প্রথম ত্রিপক্ষীয় ফোরাম। পরিবর্তনশীল শ্রমজগতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব পক্ষের মধ্যে আরও সংলাপ, সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জলবায়ু ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে আজকের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আব্দুর রহিম।

মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় যুক্ত রয়েছে। একটি হলো, বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিকই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। অন্যটি হলো আমাদের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া। এই পর্যায়ে আমাদের একটি অর্থবহ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তিনি মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় প্রচেষ্টাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

মেসবাহউদ্দীন আহমেদ বলেন, সরকার, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত আলোচনা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে কার্যকর সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সংলাপ ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সবার জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, শ্রম সংস্কার কমিশন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার কথা বলেছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

উল্লেখ্য, বিল্‌স বাংলাদেশের শ্রম খাত নিয়ে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোভন কর্মজগৎ গঠনে সামাজিক সংলাপের ভূমিকা এবং ন্যায্য কর্মজগতের জন্য সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা: চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি এ দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সরকার, নিয়োগকর্তা সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ