নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে ৯ দিন পর দুই শ্রমিক উদ্ধার
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৪-০৯-২০২৬ ১১:০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৪-০৯-২০২৬ ০২:২৬:২৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুই শ্রমিককে। ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওই সুড়ঙ্গে এখনো আরও মানুষ আটকা থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান ঘিরে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে উদ্ধার হওয়া কাদামাখা দুই শ্রমিকের ছবি ও ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। উদ্ধারকারীদের কাঁধে করে তাদের ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনতে দেখা যায়।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন কবির মহার্জন ও সঞ্জয় শাহ। ৩০ বছর বয়সী সঞ্জয় শাহ নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান। আর ৪৫ বছর বয়সী মহার্জন ত্রিশুলি-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারভাইজার।
উদ্ধার হওয়া শ্রমিক কবির মহার্জনের ভাই আমির মহার্জন বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি খুব খুশি। আমার বুকটা যেন হালকা হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারের পর সঞ্জয় শাহ কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তর-পশ্চিমে বাত্তারে নেয়া হয়।
এদিকে মহার্জনের স্ত্রী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ থেকে বের করার সময় তার স্বামী সচেতন ছিলেন। তাকে কাঠমান্ডুর সামরিক হাসপাতাল ছাউনি হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি চলছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রিশুলি-৩এ সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান চলার সময় আরও মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে।
গত ২৬ আগস্টের বন্যার ৯ দিন পর এই দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হলো। হিমবাহ ধসে ওই বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্যায় নেপালের বিভিন্ন শহর ও উপত্যকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে নেপালের আরও প্রায় ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান চলছে। এসব সুড়ঙ্গে ১৫০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বড় ধরনের উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে প্রকৌশলীরা এসব সুড়ঙ্গে বাতাস ঢোকানোর কাজ করছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় অন্তত ১ হাজার ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে বুধবার চীন জানিয়েছে, সীমান্তের তিব্বত অংশে ২১ জন নিহত এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স