শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-০৯-২০২৬ ০১:০০:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-০৯-২০২৬ ০১:০০:৫৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে 'গণহত্যার' ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। এর আগে সকালে গ্রেপ্তার ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অসুস্থতাজনিত কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে হাজির করা হয়নি।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়, পলাতক ৩০ আসামিকে তাদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে মামলায় পরবর্তী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে দুটি জাতীয় দৈনিকে (ইংরেজি ও বাংলা) বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ দেযন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আসামিরা হলেন— তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।
পলাতক আসামিরা হলেন— মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন।
এছাড়া তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ১১ আসামিকে হাজির করার কথা ছিল। তবে, দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকৃত ব্যক্তিদের নন এক্সিকিউটিভ রিপোর্ট বা এনইআর না আসায় সময় চায় প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে পলাতকদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ মামলায় দুটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে, ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স