ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুবলপুর পানি সংরক্ষণাগার ঘিরে দর্শনার্থীর ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৪:০০:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ০৪:০০:৪৫ অপরাহ্ন
সুবলপুর পানি সংরক্ষণাগার ঘিরে দর্শনার্থীর ভিড় ছবি : সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার সুবলপুর পানি সংরক্ষণাগার (ওয়াটার রিজার্ভার) এলাকা এখন স্থানীয়দের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। নদীর প্রবাহ আর ওয়াটার রিজার্ভারসহ মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে স্থানটিতে ছুটে যাচ্ছে দর্শনার্থীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগেও সুবলপুরের ওই এলাকার চিত্র ছিল ভিন্ন। পাটাচোরাসহ পাশের গ্রামের মানুষের যাতায়াতের ভরসা ছিল একটি বাঁশের সাঁকো। পরে ওই স্থানে মাথাভাঙ্গা নদীর সংযোগস্থলে ভৈরব নদে সম্প্রতি পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের কাজ শেষ হয়। 

এর পরই বদলে যেতে থাকে এলাকার পরিবেশ।

স্থাপনাটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিকেল হলেই এখন নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি বাড়ে; এলাকাটি হয়ে ওঠে জমজমাট। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে রয়েছে ঘাটতি। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংরক্ষণাগার এলাকা ঢালু হওয়ায় অসাবধানতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ে। রয়েছে বখাটে ও  ইভটিজারদের উৎপাত। এসব ব্যাপারে নজরদারি, পার্কিং ব্যবস্থা এবং নদীর পানি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার উদ্যোগের দাবি তাদের। 
স্থানীয় দর্শনার্থী বাবু মিয়া বলেন, ওয়াটার রিজার্ভার খুবই দর্শনীয়, পরিবেশও বেশ সুন্দর। নদীর পানি ও চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে এখানে আসতে ভালো লাগে।

পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে জায়গাটি বেশ উপযোগী। তবে দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। 

সুবলপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুবকর মাস্টার বলেন, আশপাশে তেমন কোনো বিনোদনের জায়গা না থাকায় ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের পর মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। প্রতিদিনই শত শত মানুষ এখানে সময় কাটাতে আসছে। জায়গাটিতে সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে এটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। 

পাটাচোরা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুতুবউদ্দিন বলেন,‘ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের পর স্থাপনাটি ঘিরে প্রতিদিন শত শত মানুষ বিনোদনের জন্য এখানে আসছে। পরিকল্পিতভাবে জায়গাটির সৌন্দর্য বাড়ানা গেলে এটি দামুড়হুদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ  বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে ‘ 

কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল করিম বিশ্বাস বলেন, সুবলপুর ওয়াটার রিজার্ভার ঘিরে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে আসছেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হবে।  

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে দর্শনার্থীদের সুবিধার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। তাই শুধু ওয়াটার রিজার্ভারের মধ্যেই অবকাঠামো সীমাবদ্ধ না রেখে দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানাই। 

পরিকল্পিতভাবে এলাকাটির সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে সুবলপুর ওয়াটার রিজার্ভার এলাকা হয়ে উঠতে পারে দামুড়হুদার একটি সম্ভাবনাময় বিনোদনকেন্দ্র। এতে স্থানীয় মানুষের বিনোদনের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আগমনকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সৃষ্টি হতে পারে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ওয়াটার রিজার্ভারটি পানি উন্নয়ন বোর্ড করেছে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব সৌন্দর্য বাড়াতে কিছু করা যায় কিনা। এছাড়া  উপজেলা প্রশাসন থেকে বসার জায়গাসহ কী কী করা যায়, সেটা আগামী সভায় আলোচনা করবো।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ