ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেই ‘সবুজ মাংস’র রহস্য উন্মোচন!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ১১:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ১১:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন
সেই ‘সবুজ মাংস’র রহস্য উন্মোচন! ফাইল ছবি
খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস লাল থেকে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। গত ২২ জুলাইয়ের ওই ঘটনায় মাংসের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। অবশেষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মাংস সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

ল্যাব পরীক্ষায় মাংসের নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এমনকি রং উৎপাদনকারী Pseudomonas ব্যাকটেরিয়ারও উপস্থিতি মেলেনি। নমুনায় পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যাকটেরিয়াজনিত পচন কিংবা ক্ষতিকারক জীবাণুর কারণে মাংসের রং পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত পাইকগাছা বাজারে। স্থানীয় মর্ডান বেকারির কর্মচারীরা বাজারের মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের কাছ থেকে চার কেজি গরুর মাংস কেনেন। বেকারিতে মাংস রান্না করার সময় সেটির স্বাভাবিক লালচে রং বদলে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যায়। বিষয়টি দেখে কর্মীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান। পরে থানাতেও বিষয়টি জানানো হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।

পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, মাংসটি দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসায় মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর কিংবা গাঠনিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলেই মাংসের রং সবুজ হয়ে থাকতে পারে।

তবে ল্যাবরেটরি প্রতিবেদনে মাংস সবুজ হওয়ার কারণটি নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণ এবং পরে উচ্চ তাপে রান্নার ফলে মাংসের রঞ্জক পদার্থে পরিবর্তনকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, প্রাথমিক পরীক্ষায় মাংসে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, পচন কিংবা জীবাণুর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে পাইকগাছায় আলোড়ন তোলা ‘সবুজ মাংস’ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, ল্যাব রিপোর্টে তার কিছুটা অবসান হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনমনে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্ক দূর করা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করার জন্য পরীক্ষার প্রতিবেদনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ