কাঁদতে কাঁদতে 'রনজিলা ম্যাডাম'কে বিদায় জানাল শিশুরা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
৩০-০৮-২০২৬ ০৮:১২:০৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
৩০-০৮-২০২৬ ০৮:১২:০৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
জীবনের প্রায় সবটা সময় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কেটেছে রনজিলা পারভীনের। সকালবেলায় স্কুলে এসে শিশুদের নিয়ে বসতেন। বিকালে স্কুল ছুটি শেষে শিশুদের সঙ্গেই বাড়ি ফিরতেন। শিশুদের সঙ্গেই ছিল তার সারা জীবনের সখ্যতা।
শিশুরাও তাকে মায়ের মতই ভালবাসত। রোববারও (৩০ আগস্ট) তারা আশা করেছিল, স্কুলে গিয়ে রনজিলা পারভীন ম্যাডামকে তার কক্ষে দেখবে। কিন্তু সেই শিশুদের জন্য রোববার দিনটা ছিল অন্যরকম; বেদনার।
কারণ, দুপুরেই স্কুলে মাঠে পৌঁছেছে একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। আর সেখানে নিরব, নিথর হয়ে শুয়ে আছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীন।
ছোট ছোট শিশুরা কাঁদতে কাঁদতে কাচের ফাঁক দিয়ে শেষবারের মত দেখছিল প্রিয় ম্যাডামের মুখ। তাদের চোখে ছিল জল। আর কোনোদিন ম্যাডাম ক্লাসে আসবেন না; তাদের আদর করে কাছে ডাকবেন না।
কাঁদছিলেন রনজিলার সহকর্মীরাও। তাদের সঙ্গে রনজিলা পারভীনকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছিলেন অভিভাবক আর স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। সবার চোখেই ছিল জল। সবাই নিজেদের মধ্যে রনজিলাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছিলেন।
চোখের চিকিৎসার জন্য শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছিলেন রনজিলা পারভীন (৫৭)। রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি। মোটরসাইকেল থেকে দুই ছিনতাইকারী তার হাতে ব্যাগ ধরে টান দেয়। তখন তিনি রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সঙ্গে সঙ্গে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। স্কুলটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে। তার বাড়ি উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামে। তিনি বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকার জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।
১৯৮৮ সালের জানুয়ারি মাসে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন রনজিলা পারভীন। পরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। বগুড়া থেকে তিনি যাতায়াত করতেন।
রনজিলা পারভীনের স্বামী আব্দুল মতিন বগুড়া নিউ মার্কেটের একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী। তাদের একমাত্র মেয়ে রাইশা বগুড়া ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
ঢাকায় মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার গভীর রাত ২টায় রনজিলা পারভীনের লাশ বগুড়ায় পৌঁছে। রোববার দুপুর ২টায় তার প্রথম জানাজা হয় বাগবাড়ী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় মাঠে।
পরে স্বামীর বাড়ি গাবতলীর দাড়াইল গ্রামে পারিবারিক গোরস্তানে তাকে বিকাল সোয়া ৩টায় দাফন করা হয় বলে রনজিলার বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম জানান।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স