ঢাকা , শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুতের এত সংকট কেন?

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৬ ০৬:০৩:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৬ ০৬:০৩:১৫ অপরাহ্ন
গ্যাস-বিদ্যুতের এত সংকট কেন? ফাইল ছবি
বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সরকার কিছু বাস্তব সমস্যার মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এর মধ্যে প্রধানতম সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালীর সংকট। তেল গ্যাস আমদানির বেশ কিছু চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অতিরিক্ত দামে স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে ভর্তুকি বাড়ছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোয় দায়িত্বশীল নীতি নির্ধারণী পদে যে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তাদের বেশিরভাগই এখন চাকরিচ্যুত বা অপসারণ হয়েছেন। এর একটা বিরূপ প্রভাবও সৃষ্টি হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। এর ফলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার মানসিকতায় ভাটা পড়েছে এমন পর্যবেক্ষণও রয়েছে। এছাড়া গত দুই বছরে গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র যথাসময়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি এমন অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার এসে সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করার কারণে অনুসন্ধান ও উত্তোলন এবং জ্বালানি খাতে একটা স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এই মুহূর্তে ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে বর্তমানে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। পিক আওয়ার তথা সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার সময় তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানোরও সুযোগ আছে। সেটিও কাজে লাগছে না। কয়লা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো ও নিজস্ব গ্যাস ও এলএনজির দক্ষ ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ম্যানেজ করে ভোগান্তি কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতি নিয়ে আনু মুহাম্মদ দীর্ঘদিন আন্দোলন করছেন। অতীতে ফুলবাড়ি উন্মুক্ত খনি বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জ্বালানি রপ্তানি বিরোধিতা, সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধী আন্দোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের দাবিতে আন্দোলনে সোচ্চার দেখা গেছে তাকে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ২০১০ সালে আমরা তৎকালীন সরকারকে বলেছিলাম বিদ্যুৎ খাতে সমাধানের পথ হলো জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেয়া। কিন্তু তখন সরকার সংকট দেখিয়ে জরুরি পরিস্থিতি দেখিয়ে বিশেষ আইনে তেল ভিত্তিক রেন্টাল, কুইক রেন্টাল এবং কয়লা এলএনজি আমদানি করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। গত দুই দশক ধরে যে ধরনের নীতির মধ্যে দিয়ে গেছে বাংলাদেশ সেটার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে এটা। কী কী নীতি কাঠামোর কারণে এই সমস্যাটা হলো এটা প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে এবং বিকল্প পথে যাত্রা করতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকারের মতো জরুরি পরিস্থিতি দেখিয়ে বর্তমান সরকারও কয়লা উত্তোলন, এলএনজি আমদানি বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে যেটি তার ভাষায় বিপজ্জনক এবং এতে টেকসই সমাধান হবে না। সমধানের পথ হলো আমাদের রিনিউএবল এনার্জির উপর জোর দিতে হবে। জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে গ্যাস অনুসন্ধান উত্তোলনে মনোযোগ দিতে হবে। ইতোমধ্যে যে গ্যাসটা আমাদের আছে স্থলভাগে ভোলা ছাতক এসমস্ত জায়গায় কত দ্রুত এগুলিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে যুক্ত করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। ছয়মাস পরে এসে সরকার বলছে আমরা দুই বছরে কিছু দিতে পারবো না। প্রথমে দায়িত্ব নেয়ার পরেইতো পুরো জিনিসটা পর্যালোচনা করে তাদের একটা পরিকল্পনা করা দরকার ছিল, একটা পথনকশা করার দরকার ছিল সেটার তো কোনো উদ্যোগ দেখা যায় নাই। সূত্র: বিবিসি বাংলা
 
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ