বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বৃষ্টি হলেই বাড়ে ভোগান্তি
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৯-০৮-২০২৬ ০১:৩৪:৫০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৯-০৮-২০২৬ ০২:০৫:১৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো গড়ে ওঠেনি কার্যকর সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক, খেলার মাঠ, আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনের আশপাশ।
কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে এসব এলাকায়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে বিবি খাদিজা হল ও আবদুল মালেক উকিল হলের সামনের সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। একই পরিস্থিতি দেখা যায় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের সড়কেও।
পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পর দীর্ঘ সময় এসব সড়ক পানিতে ডুবে থাকে। সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডেও সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে বৃষ্টির পর মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুব্রত দে বলেন, প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও কোনো সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে ওঠেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। আবাসিক হল থেকে বের হওয়া কিংবা ক্লাসে যাওয়া এখন চরম দুর্ভোগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে খেলার মাঠ পানি ও জলাবদ্ধতায় ভরে থাকে।
ফলে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুফাচ্ছেল হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন পোকামাকড় ও মশার উপদ্রবও বাড়তে দেখা যায়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হক অমি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাধারণত গাড়িতে চলাফেরা করেন। তাই শিক্ষার্থীদের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি তাদের চোখে পড়ে না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলো পানিতে ডুবে যায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বছর পার হওয়ার পরও পানি নিষ্কাশনের ভালো কোনো ব্যবস্থা না থাকা দুঃখের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। এতে সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম রাখা হয়েছে।
তবে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের আগেই প্রয়োজন অনুযায়ী পানি যাতে জমে না থাকে, সে জন্য এখন থেকেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান উপাচার্য।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স