ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ , ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইনজীবীদের পেশাগত মান নিয়ে সংশয় রয়েছে: আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০৩:৩৩:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৬ ০৩:৩৩:২১ অপরাহ্ন
আইনজীবীদের পেশাগত মান নিয়ে সংশয় রয়েছে: আইনমন্ত্রী ছবি : সংগৃহীত
দেশে প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী থাকলেও তাদের পেশাগত মান নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের দক্ষতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও মানোন্নয়নের জন্য কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ১৮ হাজার আইনজীবী থাকলেও তাদের মধ্যে ভালো আইনজীবী কতজন, তা জানার কোনো উপায় নেই।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন আইনজীবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক আইনজীবীর পেশাগত প্রশিক্ষণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। সার্টিফিকেট পাওয়ার পর একজন নতুন আইনজীবী সাধারণত কোনো জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কিন্তু এর বাইরে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ খুবই সীমিত।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য পেশায় প্রবেশের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা, বিচারকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অথচ আইনজীবীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো কার্যকর প্রশিক্ষণব্যবস্থা দীর্ঘদিন গড়ে ওঠেনি। এ কারণে আইনজীবীদের পেশাগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালতে প্রায় ১৮ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ভালো আইনজীবী কতজন, তা জানার কোনো উপায় নেই। ভালো ড্রাফটিং করতে পারেন এমন আইনজীবীর সংখ্যাও পর্যাপ্ত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইনজীবী হওয়ার জন্য পড়ালেখার কোনো বিকল্প নেই। একজন আইনজীবীকে প্রতিনিয়ত শিখতে হবে। যত বেশি পড়াশোনা করবেন, তত বেশি শিখবেন। আইন পেশায় এসে শুধু সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; আইন, বিচারব্যবস্থা ও পেশাগত নৈতিকতা সম্পর্কে নিয়মিত জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’

নতুন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য এই পেশায় আসা উচিত নয়। টাকার পেছনে ছুটলে একজন আইনজীবী হিসেবে শেষ হয়ে যেতে পারেন, কিন্তু পেশার পেছনে ছুটলে একজন পরিপূর্ণ আইনজীবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা দুর্নীতির পথ ধরবেন, শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার চেষ্টা করবেন, নাকি প্রকৃত আইনজীবী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবেন। পেশাগত নীতি-নৈতিকতা, মেধা ও দক্ষতাকে সামনে রেখে কাজ করতে পারলে আইনজীবীরা ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।’

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দেন আইনমন্ত্রী। তিনি নতুন আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘অর্থের বিনিময়ে ১০টি মামলা পরিচালনা করলে অন্তত দুটি মামলা বিনামূল্যে করার চেষ্টা করা উচিত। অসহায় মানুষের জন্য আইনি সহায়তা দেওয়াকে তিনি আইনজীবী পেশার ‘যাকাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।’

নিজের আইনজীবী জীবনের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এক দরিদ্র নারী জমিসংক্রান্ত একটি মামলায় তার কাছে এসেছিলেন। ওই নারীর মাত্র পাঁচ শতক জমি ছিল, যা তিনি ভূমিহীন হিসেবে সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। পাশের জমির মালিক এক আইনজীবী ওই জমি দখলের চেষ্টা করলে নারীটি আইনি সহায়তার জন্য তার কাছে আসেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন পেশার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পেশাগত মান ও দক্ষতা বাড়ানো। এ জন্য সরকার আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নিয়েছে। আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নামে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হতে পারে।’Geographic Reference

তিনি বলেন, ‘৮০ হাজার আইনজীবীকে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আইন পেশাকেও নতুনভাবে সাজাতে চায় সরকার।’
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ