ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ , ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মার রুদ্ররূপে ঝুঁকিতে জাজিরার ৫০০ পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৩:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৪:০২:১০ অপরাহ্ন
পদ্মার রুদ্ররূপে ঝুঁকিতে জাজিরার ৫০০ পরিবার ছবি : সংগৃহীত
বহু কষ্টে টাকা জমিয়ে ১০ কাঠা জমি কিনেছিলেন নাজমা বেগম। ভেবেছিলেন, অবশেষে হলো স্থায়ী একটি ঠিকানা। হয়তো এই জমিতেই হবে তার শেষ আশ্রয়। তবে কে জানত, এতটা নির্দয় হবে প্রকৃতি? নাজমার বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। এ বয়সেই ছয় বার নিজের সর্বস্ব বিলীন হতে দেখেছেন পদ্মায়। সাম্প্রতিক ভাঙনের কবলে আবারও পড়েছে তার ভিটেমাটি। তাই এক বুক হতাশা নিয়ে পদ্মার তীরে বসে আছেন তিনি। শুধু নাজমা নন, একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন জাজিরার কাথুরিয়া এলাকার ৫০০ পরিবার।

শরীয়তপুরের জাজিরায় তীব্র হয়ে উঠেছে পদ্মা নদীর ভাঙন। গত কয়েক দিনে নদীতে বিলীন হয়েছে সড়ক, বিদ্যুতের খুঁটি ও বসতবাড়িসহ প্রায় ১০০ মিটার এলাকা। ভাঙনের মুখে রয়েছে বাজার, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাঝিরঘাটসহ আশপাশের ৫০০ পরিবার। আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। যাদের যাওয়ার জায়গা নেই, শেষ সম্বলটুকু রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।

ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীরে মাটি ধসে পড়ছে গোলাকারে। একের পর এক বড় অংশ ভেঙে মিলিয়ে যাচ্ছে স্রোতে। কোথাও বসতঘরের টিন খুলছেন মালিকেরা, কোথাও সরানো হচ্ছে দোকানের মালপত্র। ঝুঁকিতে থাকা খুঁটিও সরিয়ে নিচ্ছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। স্থানীয়রা সড়কের ইট খুলে রাখছেন নিরাপদ স্থানে। এর মধ্যেই বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে দেখা গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীদের। তবে নদীর তীব্র স্রোতের সামনে এ প্রতিরোধব্যবস্থা কতটা টিকবে, তা নিয়ে সংশয়ে স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য বলছে, জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের পদ্মা সেতু এলাকা থেকে জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধ। ৩৯টি গুচ্ছ প্রকল্প বা প্যাকেজের মাধ্যমে এ কাজে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি শুরু হয় ২০২৪ সালে। পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের জিরোপয়েন্ট থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার এলাকায় তখন কাজ শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালে পদ্মা সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে প্রকল্পে আরও দুই কিলোমিটার যুক্ত করা হয়।

তবে প্রকল্পের কাজ চললেও ভাঙনের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। বরং জিরোপয়েন্ট থেকে পালেরচর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় গত বছর ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছিল। এতে কয়েকটি প্যাকেজের আওতাধীন বাঁধের কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই পরিস্থিতিতে গত বছরের জুন থেকে ওই অংশের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ১৪টি প্যাকেজের নকশা পরিবর্তন করে চলতি বছরের মে মাসে আবার কাজ শুরু হয়। বর্ষা মৌসুমের কারণে মূল কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারেরা ব্লক তৈরির কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তারা।

ভাঙনের খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার কাথুরিয়া এলাকা পরিদর্শন করেন পাউবো কর্মকর্তারা। শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান তখন বলেন, ‘নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে ভাঙন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিরোপয়েন্ট রক্ষা প্রকল্পের তিন কিলোমিটার অংশ বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ কিলোমিটার অংশের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ। বাকি ৫ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার অংশের কাজ চলছে। বর্ষার কারণে এখন নদীতে মূল কাজ বন্ধ থাকলেও ঠিকাদারেরা ব্লক তৈরি করছেন।’
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ