ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ , ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্লাস্টিকের দাপটে কোণঠাসা বাঁশ-বেত পণ্য

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৩:২৪:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৬ ০৩:২৪:৪৪ অপরাহ্ন
প্লাস্টিকের দাপটে কোণঠাসা বাঁশ-বেত পণ্য ছবি : সংগৃহীত
একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ছিল বাঁশ-বেতের তৈরি নানা জিনিস। ঝুড়ি, কুলা, খাঁচা, মুরগির ঘর, ঢাকনা, চাটাই, হাতপাখা, মোড়া, পাটি, মাছ ধরার পলো, ঘুনি, ধামা ও পালির মতো নিত্যব্যবহার্য এসব পণ্য ছিল মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাজার দখল করেছে প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের তৈরি পণ্য। কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে এসব পণ্যের কাছে ক্রমেই কদর হারাচ্ছে বাঁশ-বেতের সামগ্রী। ফলে জীবননগরে বংশপরম্পরায় চলে আসা এ শিল্প এখন টিকে থাকার লড়াই করছে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের দাসপাড়ায় গেলে এখনো বাঁশ-বেত দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করতে দেখা যায় কয়েকটি পরিবারকে। তবে আগের সেই কর্মচাঞ্চল্য নেই। একসময় পাড়াটির প্রায় প্রতিটি পরিবারই যুক্ত ছিল এ পেশার সঙ্গে। এখন অনেকেই পেশা বদলে চলে গেছেন অন্য কাজে।

উথলী গ্রামের শ্রী নারায়ণ দাস বললেন, ‘একসময় দাসপাড়ার প্রায় প্রতিটি ঘরেই বাঁশ-বেতের জিনিস তৈরি হতো। এখন প্লাস্টিকের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে বাঁশ-বেতের দামও বেড়েছে। তাই অনেকেই এ কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।’

প্রায় ৪০ বছর ধরে এ পেশায় থাকা শ্রী বুদো দাস বললেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা এ কাজ করতেন। তাদের কাছ থেকেই শিখেছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো চলছে না। একটা বাঁশ কিনতে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা লাগে। অথচ সেই তুলনায় তৈরি পণ্যের দাম বাড়েনি। ছেলেমেয়েরাও এ কাজ শিখতে চায় না। সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো পেশাটি ধরে রাখা সম্ভব হতো।’ শ্রীমতী বাসন্তী রাণী বললেন, ‘বাঁশ ও বেতের জিনিস তৈরি করেই সংসার চলে। অনেক বছর ধরে কাজ করছি। কিন্তু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারিনি। এখনো সরকারি কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনুমানিক ৪৭৬ জন কারিগর এখনো বাঁশ-বেতের কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অনেকে পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশায় আছেন। তবে কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিকের সস্তা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না তারা।

জীবননগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন মোড়ল বললেন, ‘জীবননগরে এখনো বেশ কিছু মানুষ বাঁশ-বেতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। তারা বংশপরম্পরায় এ পেশা ধরে রেখেছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সহায়তা দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জীবননগরেও প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এ শিল্প টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ