হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার চাঁই-শিল্প
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৪-০৮-২০২৬ ১১:৫০:০৬ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০৮-২০২৬ ১১:৫০:০৬ পূর্বাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলায় বাঁশ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী চাঁই-শিল্প। তারপরও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে শত বছরের এ লোকজ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন নেছারাবাদ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ। মুলি ও মোড়ল বাঁশের সরু সলা, সুতা আর গ্রামীণ নারীদের নিপুণ হাতের বুননে তৈরি এ মাছ ধরার ফাঁদ শুধু একটি লোকজ উপকরণ নয়। এটি দক্ষিণাঞ্চলের জলজ সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য ও হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার করফা, চীনা-বুনিয়া, বলদিয়া, জলাবাড়ি, মাহমুদকাটি, আটঘর-কুড়িয়ানা, কাটাখালি, কাঁটা-বুনিয়া, চিলতলাসহ অন্তত ১৮টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার নারী-পুরুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাঁই তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করে থাকে। তারা বাঁশ সংগ্রহের পর সলা তৈরি করে চাঁই বুনেন। তারপর নৌকা-ট্রলারে স্থানীয় বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন।
স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁই তৈরির প্রধান উপকরণ মুলি ও মোড়ল বাঁশ এবং সুতা। প্রথমে বাঁশ প্রয়োজনমতো কেটে ছাঁচা হয়। বাঁশের টুকরগুলো কয়েকদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরে রোদে শুকিয়ে সলা তৈরি করা হয়। সেই সরু ও নমনীয় সলা দিয়ে নির্দিষ্ট নকশার কাঠামোতে সুতা দিয়ে বুনে তৈরি করা হয় মাছ ধরার চাঁই।
স্থানীয়ভাবে মাছের ধরন ও আকার অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চাঁই তৈরি হয়। একেকটি চাঁই আকার ও মানভেদে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পুরুষরা সাধারণত বাঁশ কাটা, সলা তৈরি ও কাঠামো প্রস্তুতের কাজ করেন। এরপর নারীরা সেই সলা দিয়ে ধৈর্য ও নিপুণতার সঙ্গে চাঁই বুনে শেষ করেন।
বলদিয়ার আব্দুল গফুর আলী বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকেই এলাকায় চাঁই তৈরির প্রচলন রয়েছে।
বর্ষা এলে খাল-বিল ও নিচু জমিতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁইয়ের ব্যবহারও বেড়ে যায়। মাছ ধরার পাশাপাশি চাঁই বিক্রি করেও বহু পরিবার এর ওপর নির্ভরশীল।
তবে কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন আধুনিক মাছ ধরার সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাঁইয়ের ব্যবহার অনেক এলাকায় কমেছে। কারিগরদের ভাষ্য, বাঁশের দাম, সুতা ও শ্রমের মূল্য বাড়লেও তৈরি চাঁইয়ের দাম সেই অনুপাতে বাড়েনি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স