চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটে ফের অচলাবস্থায় শিল্পখাত
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২১-০৮-২০২৬ ০১:৩০:৩৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২১-০৮-২০২৬ ০১:৩০:৩৮ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
গ্যাস সংকটে ফের অচলাবস্থার মুখে চট্টগ্রামের শিল্পখাত। মহেশখালীর একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে তীব্র হয়েছে সংকট। গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়েছে ছোট-বড় অনেক কারখানা। উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি, অন্যদিকে রপ্তানি আদেশ হারানোর শঙ্কায় উদ্যোক্তারা।
গ্যাসের চাপ কম। তাই থেমে আছে কারখানার চাকা। চট্টগ্রামের বায়েজিদ, অক্সিজেন ও কালুরঘাট শিল্প এলাকায় গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ছোট ও মাঝারি পোশাক, বস্ত্র, সুতা ও এক্সেসরিজ কারখানা। সবচেয়ে বেশি সংকটে গ্যাসনির্ভর নিটিং, ডায়িং ও প্রিন্টিংসহ কম্পোজিট টেক্সটাইল মিল।
বড় কারখানাগুলোও চলছে অর্ধেক সক্ষমতায়। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন কমেছে প্রায় অর্ধেক। দীর্ঘসময় মেশিন বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি। এলোমেলো হয়ে পড়ছে রপ্তানির সময়সূচি। বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি, আর ক্রেতার আস্থা হারানোর শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ক্লিফটন গ্রুপ ডায়িং ও প্রিন্টিং নিটিং প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের টোটাল ৬টি গার্মেন্টস আছে সেখানে আমাদের ২০ টন ফ্রেবিক প্রতিদিন দিতে হয়। সেখানে আমরা ১২ থেকে ১৩ টন দিতে পারছি। আমরা বিশ্বে পোশাক শিল্পে দ্বিতীয় আমার মনে হয় না বেশিদিন আমরা সে ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবো।’
কারখানা চালু রাখা ও অর্ডার ধরে রাখতে কেউ কেউ ব্যবহার করছেন বিকল্প জ্বালানি। তবে এর খরচ এত বেশি যে দীর্ঘমেয়াদে এই পদ্ধতিতে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
জি কে শার্টস লিমিটেড চেয়ারম্যান মো. কায়কোবাদ বলেন, ‘এমরা এখন বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা এলপিজি নিয়ে এসে বয়লার চালাচ্ছি। প্রতিদিন তিনটি ফ্যাকটরি চালাতে এক্সট্রা খরচ হচ্ছে।’
শুধু পোশাক ও বস্ত্র নয়, সংকটে পড়েছে রড, সিমেন্ট ও খাদ্যসহ গ্যাসনির্ভর প্রায় সব শিল্প। জুলাইয়ে রেকর্ড রপ্তানি হলেও আগস্টে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও।
হিফস এগ্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোয়াইব হাছান বলেন, ‘গ্যাসের সংকটের কারণে আমাদের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। আমরা কীভাবে আমাদের অর্ডার ডেলিভারি দেব এ বিষয়ে চিন্তায় আছি।’
এমসি শিপিং হেড অব অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিক আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একটি নেগেটিভ ফ্লো দেখতে পাচ্ছি। আগের মাসের তুলনায় এক্সপোর্টও অনেক কম। এটির মূল কারণ মনে করছি ফ্যাকটরি সঠিকভাবে সাপ্লাই পাচ্ছে না।’
চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে গ্রিড থেকে পাওয়া যায় ২৫০ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ নেমেছে মাত্র ১৯০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি বুধবার বিকেল থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
কেজিডিসিএল বলছে, টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি পুরোপুরি মেরামত এবং নতুন এলএনজিবাহী কার্গো না আসা পর্যন্ত দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা কম। গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে তা প্রতিযোগী দেশগুলোর হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চট্টগ্রামের শিল্প উদ্যোক্তারা।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স