ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ , ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকট কমাতে ব্যাটারিরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৬ ১২:২৯:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৮-২০২৬ ১২:২৯:৪৪ অপরাহ্ন
জ্বালানি সংকট কমাতে ব্যাটারিরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ ফাইল ছবি
জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি ও জাতীয় গ্রিডে বাড়তি চাপ; তিন দিকের চাপ সামলাতে এবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জে গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। নিবন্ধন ও নবায়নের শর্ত হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেয়া বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। তবে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য প্রয়োজনীয় সৌর অবকাঠামো তৈরি করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

একসময় শুধু রাজধানীর অলিগলিতে দেখা যেত ব্যাটারিচালিত রিকশা। এখন এসব যান উঠে এসেছে প্রধান সড়কেও। দ্রুতগতির তিন চাকার এসব যানবাহনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়ছেন অন্য যানবাহনের চালক ও পথচারীরা। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৩০ শতাংশ যাত্রী ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

দেশে যখন বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং চলছে, তখন প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পেছনে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন এই খাতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বিদ্যুৎ। এর বড় একটি অংশই আসছে অবৈধ সংযোগ থেকে।

সরেজমিনে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দেয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। অথচ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দেয়ায় সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
 
গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিটি অটোরিকশা দিনে ৮ থেকে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। যা জাতীয় গ্রিডের প্রতিদিনের ৮০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সমান। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৫ শতাংশ।

শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ। এসব স্থানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। কোথাও গ্যারেজের ভেতরে শত শত ব্যাটারি একসঙ্গে চার্জ দেয়া হচ্ছে। আবার কোথাও শিল্পাঞ্চলের মতো এলাকায় প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে অবৈধভাবে চলছে চার্জিং কার্যক্রম। এক চালক বলেন, ‘গাড়ির চার্জ দিলে চাঁদা চায়। এখন চাঁদা না দিলে মারধর, আবার চাঁদা বাজারে আমাদের নামে মামলা করে। আমরা অবৈধ কিছু করতেছি না।’
 
জ্বালানি সংকট ও জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সরকার এবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে নিবন্ধন দেয়া হলেও রিকশাগুলো কেবল সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেয়ার বাধ্যবাধকতা চালু হতে যাচ্ছে।
 
তবে সৌরবিদ্যুতে যাওয়ার পরিকল্পনাতেও বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিপুলসংখ্যক রিকশার জন্য প্রয়োজন হবে সোলার চার্জিং স্টেশন, স্টোরেজ ব্যবস্থা, নিরাপদ চার্জার, মিটারভিত্তিক হিসাব এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
 
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘সোলার চার্জিং স্টেশন এককভাবে চালাতে গেলে এই খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করে সচল রাখা কঠিন হবে। যে কারণে হাইব্রিড মোডেই যেতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত স্টোরেজ সিস্টেম চালু না হচ্ছে। আবার এই চার্জিং ভেহিকেলস নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেটা খুব গুরুতর নয়। এটি সমাধান করা সরকারের আয়ত্তের মধ্যেই আছে।’
 
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান চান সাধারণ মানুষ।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ