ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় ৫১ লাখ মানুষ পাবেন কলেরার টিকা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-০৮-২০২৬ ০৩:২২:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৮-২০২৬ ০৩:২২:৫৯ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
দেশের কলেরা ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে প্রথম ধাপের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপের টিকা দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে।
এক বছর বা তার বেশি বয়সী নারী-পুরুষ এ কর্মসূচির আওতায় টিকা নিতে পারবেন। তবে গর্ভবতী নারীদের এ টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে ‘সর্বজনীন কলেরা প্রতিরোধ টিকাদান কর্মসূচি-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম ধাপের টিকা দেওয়া হবে ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টিকাদান চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে।
কর্মসূচির আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এলাকার পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট এলাকাতেও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় কলেরার কারণে গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ত। বর্তমানে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্কতা জরুরি। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মতো এ কর্মসূচিও সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি পিটার জর্জ এল মাইস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচকে/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স