একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: মির্জা ফখরুলের প্রত্যাশা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২০-০৮-২০২৬ ০১:৪৮:০৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৮-২০২৬ ০১:৪৮:০৬ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
‘সুখী-সমৃদ্ধ একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে’ এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে গণমাধ্যমে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল। ফলে ভোটের পর তিনিই বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বলে ধরে নেওয়া যায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখব যা আমি প্রত্যাশা করছি, যা আমি মনে মনে স্বপ্ন দেখছি। সেটি হচ্ছে, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র; যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী এবং দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবে, সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে এবং নিরাপদে-নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারবে। যেখানে আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে এবং জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের বুকে আমরা বাংলাদেশিরা একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করব। আমি বিশ্বাস করি ও প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে সক্ষম হবে।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথমে আমি শুকরিয়া আদায় করতে চাই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই দেশবাসীর কাছে, যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে আমি পাশে ছিলাম, সুখে-দুঃখে তাদের কাছে ছিলাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি।
আমি মনে করি, তার নেতৃত্বে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ-এর গন্তব্যে পৌঁছাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে কিছুটা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক কিছু মিস করব, যা স্মরণ করলে আমি আবেগকে ধরে রাখতে পারছি না। সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সকলে সরকারকে সহযোগিতা করুন।
তিনি বলেন, আজকের এই দিনে আমার সবচেয়ে বেশি যার কথা মনে পড়ে এবং যার কথা মন কাঁদায়, তিনি হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই মহীয়সী নারী নেত্রী তথা প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধার আমি সান্নিধ্য পেয়েছি, স্নেহ পেয়েছি। আজকে ক্ষণে ক্ষণে তার কথা স্মরণে আমার আবেগকে স্পর্শ করে, শিহরণ জাগায়।
বাম ঘরানার ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতি দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন। পরবর্তীতে তিনি যোগ দেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এ। দীর্ঘ পরিক্রমায় তার ওপরই বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া।
২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি, আর এখন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য।
দুপুর ২টায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরু হবে জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন এই নির্বাচন পরিচালনা করবেন। ভোট গ্রহণ চলবে বেলা পাঁচটা পর্যন্ত।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দুপুর ২টায় তিনি ভোট দিতে সংসদে যাবেন এবং ভোট দেবেন।
কয়েক দিন যাবৎ হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের নেতা-কর্মীরা একনজর দেখা করতে ভিড় করছেন এই বাসায়। সবার সঙ্গে দেখা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছেন।
গতকাল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যোগ দিয়েছেন। এটি ছিল তার শেষ সভা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়ে যাবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স