ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ , ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​রূপপুর প্রকল্পে তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই: রাশিয়া

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ০২:২০:৫৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৮-২০২৬ ০২:২০:৫৩ অপরাহ্ন
​রূপপুর প্রকল্পে তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই: রাশিয়া ​ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় খাদ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকাস্থ রাশিয়ার দূতাবাস। 

এসব প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও রুশ-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে দূতাবাস একটি বিবৃতি দিয়েছে।

বুধবার (১৮ আগস্ট) বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিশ্বমানের প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটিতে কোনো অনিয়ম বা অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া, রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ইন্টারন্যাশনাল ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে আসছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০টির বেশি গ্যাস কূপ খনন সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে ভোলার গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রও রয়েছে। 

এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে বলে দাবি করেছে দূতাবাস।

খাদ্য সহযোগিতার বিষয়ে রুশ দূতাবাস জানায়, রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়। আন্তঃসরকারি চুক্তির আওতায় গম বেচা-কেনায় কোনো অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীর মূল্য নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।

রুশ দূতাবাস জানায়, রাশিয়া থেকে রপ্তানি করা সব কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক ফাইটোস্যানিটারি মান এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত কারিগরি শর্ত অনুযায়ী কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসের আগে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় পরিদর্শন সংস্থা গুণগত মান নিশ্চিত করে এবং পরে বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা ও পরীক্ষাগার যাচাই সম্পন্ন করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাশিয়া থেকে আমদানি করা গমের মান বা উৎস নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিজস্ব বৈধ কৃষি খাত থেকে সংগৃহীত গমই রপ্তানি করে।

রুশ দূতাবাস বলেছে, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে রাশিয়া। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও জ্বালানি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশে মানসম্মত কৃষিপণ্য সরবরাহ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে রাশিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিতে গণমাধ্যমকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুরক্ষায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ