বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-০৮-২০২৬ ১২:৪০:৫৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-০৮-২০২৬ ১২:৪০:৫৭ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার প্রাণনাথ চর এলাকায় বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ থাকার পর সম্প্রতি সেতুটির একটি অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় নদী পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। নিরাপদ বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় কাজে যেতে হচ্ছে তাদের। বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় পারাপারের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
স্থানীয়রা জানান, প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ডিঙি নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেছে, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নদী পার হতে ভয় লাগে। দ্রুত সাঁকোটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবিও জানায়।
আরেক শিক্ষার্থী সাইদুরের ভাষ্য, বর্ষায় নদীতে পানি বেশি থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে, এমন প্রত্যাশা তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে তারা বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। নতুন সংসদ সদস্য আকতার হোসেনকে পেয়ে এলাকায় একটি পাকা সেতু নির্মাণের আশা করেছিলেন তারা। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।
আরেক বাসিন্দা ময়েজ মণ্ডল জানিয়েছেন, সাঁকোটি শুধু মানুষের চলাচলের জন্য নয়, কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সাঁকোটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স