ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ , ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব মহাসড়কে 'অটো ফাইন সিস্টেম' চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০২:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০৫:০৯:৩৫ অপরাহ্ন
সব মহাসড়কে 'অটো ফাইন সিস্টেম' চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ​ছবি: সংগৃহীত
দেশের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচলকে অধিকতর সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও গতিশীল করতে এক বৈপ্লবিক উদ্যোগের শুভ সূচনা হয়েছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষে এই মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রধান মহাসড়ককে এই স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।

মহাসড়কে যেকোনো প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে চাঁদাবাজির ঘটনা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারও পক্ষ থেকে ঘটলেও তা সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হবে।’ প্রযুক্তির এই নজরদারির ফলে অপরাধের প্রবণতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় মহাসড়ককে পুরোপুরি চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে স্থানীয় প্রয়োজনে ফিডার রোড ব্যবহার ও জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করতে তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।

প্রকল্পের কারিগরি দিক সম্পর্কে জানানো হয় যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে ইতোমধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং অবৈধ পার্কিংয়ের মতো আইন ভঙ্গের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও রেকর্ড করতে সক্ষম। আইন অমান্যকারী কোনো যানবাহন শনাক্ত হওয়া মাত্রই তার তথ্য বিআরটিএ-র ডেটাবেজের মাধ্যমে যাচাই করে নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জরিমানার খবর পৌঁছে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে মালিকরা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ঘরে বসেই সেই জরিমানা পরিশোধ করতে পারবেন। একই যানবাহনের বারবার আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অ্যাডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আধুনিক ব্যবস্থা মামলা পরিচালনায় সময় সাশ্রয় করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ