গ্যাসের অভাবে বন্ধ ২১০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র, ভোগান্তিতে ময়মনসিংহ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৮-০৮-২০২৬ ১২:১৭:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৮-২০২৬ ১২:১৭:২৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ২৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া এ অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং। গ্রাহকদের অভিযোগ, জেলা শহরে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
আরপিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শম্ভুগঞ্জে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। তিন ধাপে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি মূলত অঞ্চলটিকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সংকটে কেন্দ্রটির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি বর্তমানে গ্যাসের অভাবে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করতে পারে না। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্লান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও কোনো কোনো মাসে উৎপাদন ৪০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রটি।
এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। নগরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনে-রাতে মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। কাঁচিঝুলি এলাকার নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তার বলেন, আগে এক-দুবার লোডশেডিং হলেও এখন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চার-পাঁচবার এবং রাতেও লোডশেডিং হচ্ছে। এর সঙ্গে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট থাকায় রান্নাবান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। তবে বাসিন্দারা বলছেন, বাস্তবে এর পরিমাণ ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে দাবি তাঁদের।
আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ২৬ দিন ধরে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে বিশেষ করে ময়মনসিংহ বিভাগে লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুতই কেন্দ্রটির উৎপাদন আবার শুরু করা সম্ভব হবে।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স