ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ , ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে দেড় টাকা ইউনিটে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ

বগুড়ায় হবে জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎকেন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০২:৫০:৩০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৪:০৮:৩১ অপরাহ্ন
বগুড়ায় হবে জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎকেন্দ্র ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ায় স্থাপন করা হবে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট। ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানী ছাড়াই দেড় টাকায় উৎপাদন হবে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতকাল রবিবার বিকেলে শহরের এরুলিয়ার বানদিঘী এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সম্প্রতি দুটি পাম্প ও একটি ওয়েল্ডিং মেশিন চালিয়ে এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়, যেটি সফল হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের এ সময়ে কম খরচের এই প্রযুক্তি দেশের জ্বালানি খাতের চেহারা বদলে দিতে পারে। এরুলিয়ার প্ল্যান্টটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক।

পরিদর্শনকালে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনার কথা জানিয়ে আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হতে পারে মাত্র ১ টাকা ৫০ পয়সা। সার্বক্ষণিকভাবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গেলে যেখানে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা, সেখানে এ প্রযুক্তিতে মাত্র ২৫ কোটি টাকা খরচে সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তিনি আরো জানান, ২০০৪ সাল থেকে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হলেও ২০১০ সালের পর গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।

১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং জলবায়ু ট্রাস্টে জমা দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় যুক্ত আরডিএর উপপরিচালক কৃষিবিদ প্রকৌশলী ড. মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সাল থেকে প্রযুক্তিটি নিয়ে তাদের ব্যাপক গবেষণা চলছে এবং ২০২৫ সাল থেকে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থ ও কিছু আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে ১ টাকা ৫০ পয়সার এ স্বল্পমূল্যের বিদ্যুৎ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে কার্যকারিতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রযুক্তিটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম খরচের এ প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা গেলে বগুড়ার স্থানীয় মেশিনারি শিল্পে যেমন বিপ্লব ঘটবে, তেমনি বিদ্যুৎ খাতে তৈরি হবে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব নতুন বিকল্প।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ