উত্তরা ফাইন্যান্সে বড় ধাক্কা: চেয়ারম্যান-এমডিসহ একসঙ্গে ৪ পরিচালকের পদত্যাগ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৭-০৮-২০২৬ ১১:৪৭:০৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১৭-০৮-২০২৬ ১১:৪৭:০৯ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে পুনর্গঠিত উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালকসহ চারজন একযোগে পদত্যাগ করেছেন। ফলে পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে এখন পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মাত্র দুজন।
পদত্যাগ করা চারজন হলেন—উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন, স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওয়ালি উল্লাহ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং উত্তরা গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও)-কে নিয়ে পাঁচ সদস্যের নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল। মূল উদ্যোক্তা পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বের করে এনে পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফেরানোই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কিন্তু পুনর্গঠনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই চেয়ারম্যান, এমডি ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামো নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পদত্যাগের পর পর্ষদে থাকলেন মাত্র দুজন
চার পরিচালকের পদত্যাগের পর উত্তরা ফাইন্যান্সের পর্ষদে এখন রয়েছেন স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম এবং উত্তরা গ্রুপের সিএফও ও পরিচালক মাহবুব আলম।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন মো. ওয়ালি উল্লাহ। এক বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনিও এবার পদত্যাগ করলেন।
অনৈতিক চাপের অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির একটি পক্ষ মিলে নতুন পরিচালকদের ওপর নানা ধরনের অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিচালকদের মধ্যে আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা পদত্যাগকারী পরিচালকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনিয়মের অভিযোগে ২০২২ সালে পর্ষদ ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে এর আগেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। আমানতের অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না করে নিজেদের মতো ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে ২০২২ সালে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা গ্রুপসংশ্লিষ্ট পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করা হয়। তারা হলেন—তৎকালীন চেয়ারম্যান রাশেদুল হাসান, উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, তাঁর ভাই ও পরিচালক মুজিবুর রহমান এবং উত্তরা পরিবারের সদস্য ও পরিচালক জাকিয়া রহমান ও নাঈমুর রহমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ২০১৯ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ওপর ভিত্তি করে উত্তরা ফাইন্যান্সে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে আমানতের অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার, কলমানির অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে খাটানো, অগ্রিম ও প্রি-পেমেন্টের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ বের করে নেওয়া এবং ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার মতো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে অন্তত ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
এসব অনিয়মের পরই উত্তরা ফাইন্যান্সের তৎকালীন পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ সদস্যের নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেয়।
তবে নতুন পর্ষদের চেয়ারম্যান, এমডি ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালকের একসঙ্গে পদত্যাগের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখন বাকি দুই পরিচালককে নিয়ে কীভাবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কার্যক্রম চলবে এবং দ্রুত নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে কি না—সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স