ছয় দেশের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহে কথা চলছে
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৬-০৮-২০২৬ ০১:০২:৩৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-০৮-২০২৬ ০১:০২:৩৫ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশের চলমান গ্যাস সংকটের সমাধানের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা বিভিন্ন রকম চেষ্টা করছি। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য এখন মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, ওমান, আজারবাইজান, আলজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্বালানিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আগের সরকার জ্বালানি খাতে যা কিছু করে গেছে তা আমদানি-নির্ভর। তারা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কিছু করে যায়নি।
ফলে আমরা ‘দিন আনে দিন খাই’ অবস্থার মধ্যে চলছি। আগের সরকার মাত্র দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণ করে গেছে, যার ফলাফল এরই মধ্যে আমরা পেয়েছি। সম্প্রতি দুর্ঘটনায় পড়া এফএসআরইউ-টির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা কখনো বলেকয়ে আসে না। এর জন্য আমাদের এখন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট ত্রুটিপূর্ণ এফএসআরইউ-টির দ্বিতীয় বয়লার আসার ছিল, কিন্তু তা আসেনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস সংকট থাকবে। আর এখন আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দামও বেশি। আগে যাদের থেকে গ্যাস কিনেছিলাম সরবরাহের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আমরা এরই মাঝে মিয়ানমারের সঙ্গে এলএনজি আমদানির বিষয়ে যোগাযোগ করেছি।
আপাতত মহেশখালীতে মিয়ানমার থেকে এলএনজি সরবরাহের কথা বলেছি। আর দীর্ঘমেয়াদে মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণের কথা বলেছি। এ ব্যাপারে আমি নিজেও মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার জন্য যাব। এলএনজি কিনতে আমরা মালয়েশিয়ার সঙ্গেও আলাপ করছি। মালয়েশিয়াতে ট্রাকে করে এলএনজি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা আছে। তাদেরকে এটি দেওয়ার কথা বলেছি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে তারা এক বছরের মধ্যে এলএনজি দিতে পারবে, আর ট্যাংকে দিতে তাদের দুই বছর লাগবে।
তিনি বলেন, এর বাইরে আমরা ওমানের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে কথা বলছি। ওমানের জ্বালানি পরিবহনের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কোনো সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া আজারবাইজানের সঙ্গেও এলএনজি নিয়ে আলাপ হয়েছে। এলএনজি আমদানির বিষয়ে কথা বলতে আলজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রেও যাব। যদিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে—অনেক দূর থেকে আনার জন্য ফ্রেইট বেশি লাগে। তারপরও এর সম্ভাবনা আমরা খতিয়ে দেখছি। এর পাশাপাশি এলএনজি আমদানির জন্য আফ্রিকান দেশগুলোও এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করছি। অর্থাৎ আমরা সরবরাহ এবং ডাইভার্সিটি নিয়ে কাজ করছি। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, তেলের ক্ষেত্রে সরকার ফ্রি মার্কেটে যাবে। উন্নত দেশেও টাকা দিয়ে জ্বালানি সুযোগ-সুবিধা নিতে হয়। বাংলাদেশকেও এসব অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, হঠাৎ করে বিদ্যুতের মিটার নিয়ে এত আলোচনা শুরু হলো কেন! বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে মিটার বিল বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। নারায়ণগঞ্জে আমাদের মিটার ভাঙা হলো কেন? আর এটি ভেঙেছে সাত মার্ডার কেসের আসামিকে যিনি সহযোগিতা করেছিলেন তিনি। এগুলো ষড়যন্ত্র। আওয়ামী লীগ আমলেও মিটার লাগানো হয়েছে, তাদের কেউ ধাওয়া দেয়নি। একজন ব্যবহারকারী দুই টনের এসি, কুকার, ফ্রিজ ব্যবহার করেও কিভাবে মাসে ৭ হাজার টাকার বিল দেন না? সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স