৮০ টাকার নিচে মেলে না কোন সবজি
দেশি মাছের বেশি দাম
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৪-০৮-২০২৬ ০২:৪৫:১৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৮-২০২৬ ০২:৫৫:২৯ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে যেন আগুন লেগেছে। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মাছের বাজার—কোথাও নেই সাধারণ মানুষের স্বস্তি। বিশেষ করে বাজারে দেশি মাছের দাম অনেক বেশি। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা। রাজনৈতিক পালাবদল বা নির্বাচনের আগে বাজারে স্বস্তি ফেরানোর নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। হতাশ ও ক্ষুব্ধ ভোক্তাদের আক্ষেপ, সবাই আশা দেখিয়ে ক্ষমতায় আসে, কিন্তু কম দামে পণ্য দেয় না কেউ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাল, ডাল, সবজি, মাছ থেকে শুরু করে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
সবজির বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের রীতিমতো ঘাম ছুটছে। বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার আশপাশে। এর মধ্যে টমেটো ও গাজর ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা এবং ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, বেগুন, উচ্ছে, বরবটি, করলা ও কচুর লতির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। তুলনামূলক কম দামের মধ্যে পেঁপে ৪০-৫০ টাকা এবং চালকুমড়া ও শসা মিলছে ৫০-৬০ টাকায়।
যাত্রাবাড়ী ও টাউনহল বাজারের ক্রেতারা গণমাধ্যমকে জানান, একসঙ্গে কয়েক পদের সবজি কিনতে গেলেই ব্যাগের খরচ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। সাদমান নামের এক ক্রেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এক কেজি করে কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা চলে যাচ্ছে। মাছ-মাংসের সঙ্গে সবজির বাজার সামলানোও এখন কঠিন।’
অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আড়ত থেকে বেশি দামে কেনার কারণে তাদের করার কিছু থাকে না। এর সঙ্গে পরিবহন ও নষ্ট হওয়ার ক্ষতি যোগ করে দাম নির্ধারণ করতে হয়।
সবজির মতো মাছের বাজারেও বইছে অস্বস্তির হাওয়া। দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় এর দাম নিম্নবিত্তের তো বটেই, মধ্যবিত্তেরও নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে দেশি পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, শোল, চিতল ও বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। এমনকি ছোট কাচকি মাছও বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।
বাধ্য হয়ে অনেকে চাষের মাছের দিকে ঝুঁকলেও সেখানেও নেই সুখবর। বাজারে চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ৩০০ টাকা এবং রুই-কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী এনায়েতুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাবদা বা শিং মাছের দাম শুনলে অনেক সময় কিনতে ইচ্ছা করলেও পারি না। বাধ্য হয়ে পাঙাশ বা তেলাপিয়া কিনতে গেলেও এখন বেশ টাকা লাগে। সংসারের অন্য খরচ সামলে মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
শ্যামবাজারের বিক্রেতারা গণমাধ্যমকে বলছেন, জলাশয়ে এখন আর আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যায় না। আর চাষের মাছের ক্ষেত্রে মাছের খাবার, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়তি।
দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। টাউনহল বাজারের ক্রেতা রহমত উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বেতন যে হারে বাড়ে, বাজারের খরচ তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ে। মাসের শুরুতেই বাজার করলে মনে হয় টাকা কোথায় চলে যাচ্ছে। মাসের শেষদিকে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিতে হয়।’
খুচরা ব্যবসায়ী তোফাজ্জলসহ অন্য বিক্রেতারাও গণমাধ্যমকে বলছেন, সরকার চাইলে পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়ে মনিটরিং বাড়াতে পারে। শুধু খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
ভোক্তা ও বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি— উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন ও বিপণনসহ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বাজারে এই অস্বস্তি কখনোই কাটবে না।
বাজারে গত দুই সপ্তাহ আগে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। আর এখন সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে এ মূল্যবৃদ্ধি ভোগান্তিতে ফেলেছে নিম্নআয়ের মানুষদের। এছাড়া বাজারে বেশিরভাগ সবজির দামই ৮০ টাকার ওপরে। দামের এমন ঊর্ধ্বগতির চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ানবাজারে। তবে দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন পাইকারদের ওপর। রামপুরা বাজারের ডিম বিক্রেতা সজল মল্লিক বলেন, আমরা প্রতি ডজনে ২-৬ টাকা লাভ করি। পাইকারিতে এখন চড়া দাম। বন্যা ও বিদ্যুৎ সংকটে অনেক মুরগি মারা যাচ্ছে। এ কারণে দাম ও বাড়তি।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, এই পণ্যটার দাম বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বন্যায় দেশের অনেক খামারি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে। এদিকে, মসলার বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, আলু ৩০, রসুন ১৫০ ও আদা ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৯০, সোনালি ৩২০-৩৩০, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৪০ টাকায়। এ ছাড়া গরুর মাংস ৮৫০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়। চালের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স