আবিদের খামারে এমু-ময়ূরসহ ২৮ জাতের মুরগি
এ যেন মুরগির সাম্রাজ্য!
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৪-০৮-২০২৬ ১২:৩৫:৩০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৮-২০২৬ ১২:৩৫:৩০ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
মাদ্রাসায় পড়ার সময় পকেট খরচের টাকা বাঁচিয়ে শখ করে কিনেছিলেন একজোড়া কোয়েল। সেই ছোট্ট শখই কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে দিয়েছে জীবনের গল্প। এখন বগুড়ার গাবতলীর তরুণ আবিদুল ইসলাম আবিদের খামারে রয়েছে এমু, বিরল প্রজাতির মুরগি, বিদেশি হাঁস, ফিজেন্ট, তিতির, খরগোশ, গিনিপিগসহ নানা প্রাণী। নিজের খামারে কৃত্রিম উপায়ে এমুর ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করছেন তিনি। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করেছেন কয়েকজন তরুণের।
গাবতলী পৌরসভার বাসিন্দা আবিদ জানিয়েছেন, ২০১৭-১৮ সালের দিকে কোয়েল পালন শুরু করেন শখের বশে। পরে একটি দোকানে সিল্কি জাতের মুরগি দেখে আগ্রহ জন্মায়। অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে একজোড়া মুরগি কেনেন। সেখান থেকেই ডিম, বাচ্চা উৎপাদন এবং বিক্রির মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় হয় তার উদ্যোগ।
বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ইউরোপিয়ান সিল্কি, ব্রাহমা, কোচিন, বেনথাম, পলিশ ফ্রিজেল, তুর্কি সুলতান, মালয়েশিয়ান শো সেরেমা, মিসরীয় ফাওমি, সুমাত্রা, সেব্রাইটসহ অন্তত ২৮ প্রজাতির শৌখিন মুরগি। পাশাপাশি রয়েছে কিং কোয়েল, কটর্নিকস কোয়েল, তিতির, জাপানের জাতীয় পাখি রিংনেক ফিজেন্ট, ম্যান্ডারিন ও উড ডাক, গিনিপিগ ও খরগোশ।
তবে পুরো খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অস্ট্রেলীয় প্রজাতির এমু পাখি। বর্তমানে সেখানে রয়েছে পাঁচটি পূর্ণবয়স্ক ও ১০টি বাচ্চা এমু। গত দেড় বছরে এমুর ডিম থেকে ২৮টি বাচ্চা ফুটিয়েছেন আবিদ। এর মধ্যে ১১টি মারা গেলেও বিক্রি করেছেন ১৮টি। প্রতি জোড়া এমু বিক্রি হয়েছে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। সম্প্রতি যোগ হয়েছে ময়ূরও।
আবিদ জানিয়েছেন, তার ‘আবিদের পোষা প্রাণী’ নামে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সারা দেশ থেকে অর্ডার দেন ক্রেতারা। এখন পর্যন্ত সরবরাহ করেছেন প্রায় ৯ হাজার পণ্য। নিজস্ব পদ্ধতিতে ডিম ফুটিয়ে উৎপাদিত পাখি পাঠাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়। শুধু নিজের আয় নয়, অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে ছয়জন শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন কাজ করছে তার খামারে। অনলাইনে বিক্রি, প্যাকেজিং ও সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করছে তারা।
খামারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী হবিবর মিয়াও। তার বাড়িতে পরিচালিত হয় খামারের একটি অংশ। এতে প্রতি মাসে ৮-১০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে তার। হবিবর মিয়া বলেছেন, ‘আগে অবসর সময় কাটত। এখন পাখিগুলোর দেখাশোনা করি। সময়ও ভালো কাটে, কিছু আয়ও হয়।’
আবিদের বাবা আবদুল কাইয়ূম জানিয়েছেন, প্রতিদিন ভোরে নামাজের পর থেকে শুরু হয় পাখির পরিচর্যা। ছেলের এই সাফল্যে তিনি গর্বিত। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও দেখতে আসেন খামারটি।
গাবতলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলামের ভাষ্য, অত্যন্ত যত্ন নিয়ে খামার চালাছেন আবিদ। নিয়মিত টিকা, চিকিৎসা ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তরুণদের জন্য তার উদ্যোগটি অনুকরণীয় উদাহরণ।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স