ভোগান্তিতে কিশোরগঞ্জের হাজারো গ্রাহক
দেড় মাসেও বদলায়নি বিকল ট্রান্সফরমার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৪-০৮-২০২৬ ১২:০২:৩০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৮-২০২৬ ১২:০২:৩০ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল-ডুবাইল মোড় এলাকায় প্রায় দেড় মাস বিকল হয়ে পড়ে আছে একটি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার। বিদ্যুৎ বিভাগের দীর্ঘসূত্রতা ও অব্যবস্থাপনায় হাজারও গ্রাহককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশের আরেকটি ট্রান্সফরমার থেকে অস্থায়ীভাবে সংযোগ দিয়ে কোনোমতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও ভোল্টেজ এতটাই কম যে, স্বাভাবিকভাবে চলছে না ঘরোয়া কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
দিন যায়, সপ্তাহ পেরোয়, মাসও চলে যায়। কিন্তু বদলায় না গাইটাল-ডুবাইল মোড়ের মানুষের দুর্ভোগ। একটি বিকল ট্রান্সফরমারের কারণে হাজারও মানুষ এখনও নির্ভর করছেন অস্থায়ী সংযোগের ওপর। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময়ই থাকে কম ভোল্টেজ।
কম ভোল্টেজে ঠিকমতো চলে না ফ্যান, মেলে না পর্যাপ্ত আলো, ফলে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা। পাশাপাশি ক্ষতির মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানও।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৪ নম্বর ফিডারের এই ট্রান্সফরমারটি প্রায় দেড় মাস আগে বিকল হয়। বারবার অভিযোগ করেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যুৎ বিভাগের একটি গাড়ি আটকে রেখে নতুন ট্রান্সফরমার বসানোর দাবি জানান তারা। পরে বিকল ট্রান্সফরমার খুলে নেয়া হলেও বসেনি নতুনটি।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘ফ্যান চলে না, লাইট চলে না—এরকম অবস্থা হয়ে গেছে। আর কিছুদিন গেলে মনে হয় যে আপনাদের এটা পুরা একটা কারাবদ্ধ হয়ে যাবে, একটা অন্ধকার জগৎ হয়ে যাবে।’
অন্য একজন বলেন, ‘বিদ্যুৎ অফিসের কাছে বিনীত আবেদন যে আমাদের ট্রান্সফরমারটা যেন অতি দ্রুত আমাদেরকে দিয়া দেয়, তাহলে আমাদের এই জনদুর্ভোগ লাঘব হবে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও একই ট্রান্সফরমার বিকল হলে নিজেরাই প্রায় এক লাখ সত্তর হাজার টাকা সংগ্রহ করে নতুন ট্রান্সফরমার বসান। আবারও একই ভোগান্তিতে তারা।
গাইটাল-ডুবাইল মোড়ের আশেপাশে বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের গত আর একবার ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ায় আমরা কিন্না আনছিলাম ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়া। কেনার পর যে তারা এহনও চাইতেছে যে তাদেরকে টাকা দেই, তার পর যে ট্রান্সফরমার আনবো।’
অন্য একজন বলেন, ‘ট্রান্সমিটার নিছে, ট্রান্সমিটার নিছে কইছে আরেকটা লইয়া আইবো। এহন আর ট্রান্সমিটার আইয়ে না।’
এ নিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে জানান, নতুন ট্রান্সফরমার না থাকায় আপাতত বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘বিদ্যুৎ দেয়া হইছে। এই মানুষও ভুল বলতাছে। এখানে কিছু দালাল চক্র আছে। একটা ১০০ কেভির ট্রান্সফরমার ছিল, এটা বার্ন হইছে। পাশে আর ২৫০ কেভির ট্রান্সফরমার খালি ছিল, এইটা থেকে বিদ্যুৎ দেয়া হইছে। কোনো লোক তো বিদ্যুৎহীন নাই রে ভাই। ওইটা আমরা দেখবো। ওইটা বোর্ডের ওইটা আসল ট্রান্সফরমার আসলে ওইটা আমরা চেঞ্জ করে দেবো।’
কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল পাওয়া যায়নি। পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের গুদামে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে পড়ে রয়েছে একাধিক নতুন ট্রান্সফরমার।
একদিকে গুদামে পড়ে আছে নতুন ট্রান্সফরমার, অন্যদিকে নিভু-নিভু আলোয় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো গ্রাহক। বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য আর বাস্তবতার অসঙ্গতি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স